করোনা ভাইরাস কী? লক্ষণ ও প্রতিরোধে আমাদের করণীয়!

করোনাভাইরাস, যার পোশাকি নাম কোভিড-১৯, সেই রোগটিকে এখন বিশ্ব মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এই ভাইরাস- যা পূর্বে বিজ্ঞানীদের অজানা ছিল- এর মধ্যেই চীনে অনেক মানুষের ফুসফুসের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাসটা কী?

করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি।

সারাবিশ্বে এরই মধ্যে ১৫০টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস, বিশ্বব্যাপী প্রাণহানি হয়েছে ৭ হাজারের বেশি মানুষের।

ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯ – এনসিওভি বা নভেল করোনাভাইরাস। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে নতুন ধরণের ভাইরাসের কারণে সেই সংখ্যা এখন থেকে হবে সাতটি।

২০০২ সাল থেকে চীনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭৭৪জনের মৃত্যু হয়েছিল আর ৮০৯৮জন সংক্রমিত হয়েছিল। সেটিও ছিল এক ধরণের করোনাভাইরাস।

নতুন এই রোগটিকে প্রথমদিকে নানা নামে ডাকা হচ্ছিল, যেমন: ‘চায়না ভাইরাস’, ‘করোনাভাইরাস’, ‘২০১৯ এনকভ’, ‘নতুন ভাইরাস’, ‘রহস্য ভাইরাস’ ইত্যাদি।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির আনুষ্ঠানিক নাম দেয় কোভিড-১৯ যা ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

রোগের লক্ষ্মণ কী:

জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ।

এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে।

সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ দেখা দেয়, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচদিন সময় নেয়।

প্রতিরোধে করণীয়!


করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুকি রোধে নিম্নের নিয়মাবলী কঠোর ভাবে পালন করার জন্য অনুরোধ করছি ঃ১। বাসা বা অফিসে প্রবেশের সময় সবাইকে বাধ্যতা মুলক ভাবে হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে দু হাত ভালোভাবে পরিস্কার করতে হবে।


২। হাঁচি কাশির সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যাবহার করতে হবে এবং ব্যাবহ্রিত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলতে হবে এবং দু হাত সাবান পানি বা হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে পরিস্কার করতে হবে।


৩। যেখানে সেখানে থুতু বা কফ ফেলা যাবেনা এবং অপরিস্কার হাত দিয়ে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করা যাবেনা।


৪। ঘন ঘন দুই হাত সাবান পানি দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে পরিস্কার করতে হবে। এছাড়া হাঁচি কাশির পর, টয়লেট করার পর, খাবার খাওয়া ও প্রস্তুত করার আগে ও পরে, পশু পাখির সংস্পর্শে আসার পর এবং হাত অপরিস্কার হলে হাত সাবান পানি দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে ধুতে হবে।


৫। হাঁচি, কাশি হলে কিম্বা জনবহুল স্থান হলে মাস্ক পরিধান করতে হবে। মাস্কটি এমন ভাবে পরুন যেনো তা নাক, মুখ ভালো ভাবে ঢেকে থাকে।


৬। মাস্কটি ব্যাবহারের সময় হাত দিয়ে ধরা থেকে বিরত থাকুন, খোলার সময় পিছন দিক দিয়ে মাস্ক খুলুন। একবার ব্যাবহারের পর মাস্কটি সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে আবার ব্যাবহার করুন।


৭। যথাসম্ভব কারো সাথে হাত মেলানো/ হ্যান্ড সেক বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।


৮। হাঁচি, কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত বাক্তি হতে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।


৯। যারা খাবার তৈরি বা সারভ করবে তারা খাবার তৈরির আগে ও পরে অবশ্যই দু হাত ভালো করে সাবান পানি দিয়ে পরিস্কার করবে।


১০। মাছ, মাংস ও ডিম ভালো করে ধুয়ে, ভালো ভাবে রান্না করে খেতে হবে এবং অসুস্থ পশু পাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

করোনা হটলাইন নাম্বারঃ
HOTLINE
333

10655

16263+8801944333222
+8801937000011
+8801937110011

করোনা ভাইরাস COVID-19 এ আক্রান্ত বা সন্দেহ নিয়ে মৃত ব্যাক্তির দাফন কাফনে
সরকার অনুমোদিত আল-মারকাজুল ইসলামী সংস্থার একদল নির্ভীক কর্মী দেশব্যাপী সেবা প্রদানের জন্য মাঠে আছেন।
প্রয়োজনে ফোন করুনঃ ০১৩১৬১১১৬৮৮
০১৮১৮৭৩২৯০৫

মাইগ্রেন এর সমস্যা ও সমাধান

কেন মাইগ্রেন হয় :

মাথার ভেতরের রক্ত চলাচলের তারতম্যের কারণে মাইগ্রেন হয়। রক্ত চলাচল কমে গেলে হঠাৎ করে চোখে সব অন্ধকার দেখা যায় এবং পরে রক্ত চলাচল হঠাৎ বেড়ে গিয়ে প্রচণ্ড মাথাব্যথার অনুভূতি তৈরি হয়। চকলেট, পনির, কফি ইত্যাদি বেশি খাওয়া, জন্মবিরতিকরণ ওষুধ, দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ভ্রমণ, ব্যায়াম ইত্যাদির কারণে এ রোগ হতে পারে।

সাধারণ মাইগ্রেনের লক্ষণ :

মাথাব্যথা, বমি ভাব এ রোগের প্রধান লক্ষণ। তবে অতিরিক্ত হাই তোলা, কোনো কাজে মনোযোগ নষ্ট হওয়া, বিরক্তি বোধ করা ইত্যাদি উপসর্গ মাথাব্যথা শুরুর আগেও হতে পারে। মাথার যে কোনো অংশ থেকে এ ব্যথা শুরু হয়। পরে পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। চোখের পেছনে ব্যথার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। চোখের ওপর হালকা চাপ দিলে আরাম লাগে। মাথার দুই পাশে কানের ওপর চাপ দিলে এবং মাথার চুল টানলেও ভালো লাগে। তখন শব্দ ও আলো ভালো লাগে না। কখনও কখনও অতিরিক্ত শব্দ ও আলোয় মাথাব্যথা বেড়ে যায়।

ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেনের লক্ষণ :

এতে দৃষ্টি সমস্যা, যেমন- চোখে উজ্জ্বল আলোর অনুভূতি, হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়া, দৃষ্টিসীমানা সরু হয়ে আসা অথবা যে কোনো একপাশ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ হতে পারে। ২০ মিনিট স্থায়ী এসব উপসর্গের পর বমির ভাব এবং মাথাব্যথা শুরু হয়, যা সাধারণত এক পাশে হয়। দৃষ্টির সমস্যা এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে ধরে নিতে হবে এটি মাইগ্রেন নয়। মস্তিষ্ক অথবা চোখে অন্য কোনো সমস্যার কারণে দৃষ্টির এ সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। মাথাব্যথা ছাড়া শুধু দৃষ্টির সমস্যাও ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেনের লক্ষণ হতে পারে।

যা করতে হবে :

মাইগ্রেন থাকলে প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুম দরকার। যেসব খাবার খেলে ব্যথা শুরু হতে পারে, যেমন-কফি, চকলেট, পনির, আইসক্রিম, মদ ইত্যাদি একদম বাদ দিতে হবে। বেশি সময় না খেয়ে থাকা যাবে না। জন্মবিরতিকরণ ওষুধ যারা খায়, তাদের সেটা সেবন না করাই শ্রেয়। প্রয়োজনে অন্য পদ্ধতি বেছে নেয়া যেতে পারে। পরিশ্রম, মানসিক চাপ ও দীর্ঘ ভ্রমণ বর্জনের মাধ্যমে মাইগ্রেন অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়।

চিকিৎসা :

বারবার মাইগ্রেনের আক্রমণ কমানোর জন্য পিজোটিফেন, অ্যামিট্টিপটাইলিন, বিটাব্লকার-জাতীয় ওষুধ কার্যকর। মাথাব্যথা শুরু হলে প্যারাসিটামল, এসপিরিন, ডাইক্লোফেনাক-জাতীয় ওষুধ ভালো। বমির ভাব কমানোর জন্য মেটোক্লোর প্রোমাইড, ডমপেরিডন-জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব ওষুধে মাথাব্যথা না কমলে সুমাট্টিপটান, আরগোটামাইন-জাতীয় ওষুধে অনেক সময় যথেষ্ট স্বস্তি পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় কথা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই বারবার এ রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, সব মাথাব্যথাই মাইগ্রেন নয়, দৃষ্টিস্বল্পতা, মস্তিষ্কের টিউমার, মাথায় রক্তক্ষরণ প্রভৃতি কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চক্ষুবিশেষজ্ঞের পাশাপাশি স্মায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

এপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ

এপেন্ডিসাইটিস (Appendicitis) বলতে সাধারনভাবে এ্যাপেন্ডিক্সের প্রদাহ বোঝায়। অ্যাপেনন্ডিক্স হচ্ছে ২ থেকে ২০ সে.মি. দৈর্ঘের নলাকার একটি অঙ্গ। এটি বৃহদন্ত্রের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে। যদি কোনো কারণে অ্যাপেনন্ডিক্সের মধ্যে ইনফেকশন হয়, তখন এটি ফুলে যায় এবং প্রদাহ হয়। একেই অ্যাপেনডিসাইটিস বলে। দ্রুত এর চিকিৎসা না করা হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসকে অত্যন্ত জরুরী অবস্থা হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং অপারেশনের মাধ্যমে দ্রুত এ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়।

এপেনন্ডিক্স কোন কারনে ফেটে গেলে জীবাণু সমগ্র পেটে ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থা পেরিটোনাইটিস নামে পরিচিত। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থা। এরকম হলে রোগীর মৃত্যুঝুকি থাকে। আবার কম তীব্রতার এ্যাপেন্ডিসাইটিস আছে যেটা এ্যাপেন্ডিসাইটিস রাম্বলিং হিসাবে পরিচিত। তলপেটে হঠাৎ করে ব্যথা উঠলেই সেটা অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা নাও হতে পারে। এরকম ক্ষেত্রে, চিকিৎসকের পরামর্শ মত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে পেটের ব্যথা থেকে মুক্ত হওয়া যায়।

এপেন্ডিসাইটিসের কারণ

এ্যাপেন্ডিক্সের ভেতরে প্রতিবন্ধকতার ফলে ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি হয়ে এ্যাপেন্ডিক্স ফুলে ওঠে এবং এতে পুঁজ জমতে শুরু করে। দ্রুত চিকিৎসা করা না হলে এই এ্যাপেন্ডিক্স ফেটে রোগীর জীবননাশের সম্ভাবনা আছে।

কাদের এ্যাপেন্ডিসাইটিস হতে পারে

  • এ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্তের কোন নির্দিষ্ট বয়স নেই। যেকোনও বয়সেই এ্যাপেন্ডিসাইটিস হতে পারে। তবে ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে যাদের বয়স, তাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • অনেক ক্ষেত্রে এ্যাপেন্ডিসাইটিস জন্ম বা বংশগত কারণেও হয়ে থাকে। পরিবারে পূর্বে কারো এই রোগটি হয়ে থাকলে তবে শিশুদের এই রোগটি হতে পারে।
  • এ্যাপেন্ডিসাইটিস সারা বছরই হতে পারে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শীতকালে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মে মাসের মধ্যেই হয়ে থাকে।
  • পুরুষদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা মহিলাদের তূলনায় কিছুটা বেশি।
  • ফাইবার জাতীয় খাবার কম খেলে এবং রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ বেশি খেলে এ্যাপেন্ডিসাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে, সিস্টিক ফাইব্রোসিসে ভুগছে এরকম শিশুদের এ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • Gastrointestinal infections যেমন Amebiasis, Bacterial Gastroenteritis, Mumps, Coxsackievirus B এবং Adenovirus এর ইনফেকশনের ফলে এ্যাপেন্ডিসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

অ্যাপেন্ডিসাইটিস এর লক্ষণ বা উপসর্গসমূহ

অ্যাপেন্ডিসাইটিস হলে নিম্নলিখিত লক্ষণ বা উপসর্গসমূহ দেখা যেতে পারেঃ

  • পেটে একটানা ব্যথা হতে পারে। ব্যথা নাভির চারদিকে থেকে শুরু হয় এবং ক্রমশ বাড়তে বাড়তে কিছুক্ষণের মধ্যেই নাভির নিচের অংশে ডানদিকে সরে যায়।
  • ক্ষুধামন্দা অর্থাৎ খিদে কমে যেতে পারে।
  • কাশি হতে পারে।
  • কোষ্ঠকাঠিণ্য হতে পারে।
  • জ্বর হতে পারে।
  • পেটফাঁপা
  • ডায়রিয়া
  • ঠাণ্ডায় কাঁপুনি
  • শরীরে সাইড পেইন হতে পারে।

এপেনডিসাইটিস নির্ণয়ে পরীক্ষা

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখে এবং তার অভিজ্ঞতা থেকে অনেক সময় কোন পরীক্ষা না করিয়েও রোগীর এপেন্ডিসাইটিস হয়েছে কিনা তা কিছুটা নিশ্চিত করতে পারেন। যেমন- যদি রোগীর কাশতে গেলে পেটে তীব্র ব্যথা অনুভুত হয়। আবার যদি তলপেটের বামদিকে চাপ দিলে ডানদিকের তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভুত হয় অথবা তলপেটের ডানদিকে চাপ দিলে বামদিকের তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভুত হয়, তাহলে সেটা এপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা হতে পারে। আবার পেটের ডান দিকের নিচের অংশে নানান কারনে ব্যথা হতে পারে, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে। তাই, অপারেশনের পূর্বে চিকিৎসককে নানান বিষয় যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে যে এটা এ্যাপেন্ডিক্সের ব্যথা কিনা। আলট্রাসনোগ্রাম বা রক্ত পরীক্ষা অ্যাপেনডিসাইটিস নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে।

চিকিৎসা

এপেন্ডিসাইটিস হলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারন- সময় মত অপারেশন না করলে অ্যাপেনন্ডিক্স ছিদ্র হয়ে ইনফেকশন পুরো পেটে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং এতে রোগীর মৃত্যুর আশংকা আছে। যেহেতু এপেনডিসাইটিসের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশন, তাই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অপারেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক্ষেত্রে প্রয়োজন মনে করলে চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে Ampicillin, hemihydrate, cefepime hydrochloride, metronidazole, ciprofloxacin, gentamicin, levofloxacin, moxifloxacin, morphine sulphate ইত্যাদি ঔষধ গ্রহনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

অপারেশন পরবর্তী সতর্কতা

  • ল্যাপ্রোস্কোপির মাধ্যমে অপারেশন করা হলে, কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। অপরদিকে যদি ওপেন এপেনডেকটোমি করা হয়, তাহলে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৪ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। অপারেশন পরবর্তী সম্পূর্ণ সুস্থ্য হতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
  • ঘুম বোধ হলে বা ক্লান্ত লাগলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। কাশি, হাসি অথবা নড়াচড়া করার পূর্বে তলপেটের উপর একটি বালিশ রেখে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। এটি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। পেইনকিলার খাওয়া সত্ত্বেও ব্যাথা না কমলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  • অপারেশন পরবর্তী ঝুকি কমাতে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশ্রাম করতে হবে। শিশুরা অপারেশনের এক সপ্তাহ পরে স্কুলে যাওয়া শুরু করতে পারবে তবে শ্রমসাধ্য কাজ যেমন জিম বা খেলাধুলা পুনরায় শুরু করার পূর্বে কমপক্ষে ২ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় নেয়া উচিত। নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে হলে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যেতে হবে।

সবশেষে

এপেন্ডিসাইটিস আছে এমনটা সন্দেহ হলে দেরি না করে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারন সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা না হলে এ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যেতে পারে এবং জীবাণু পেটে ছড়িয়ে যেতে পারে। এটা পেরিটোনাইটিস নামে পরিচিত। এ্যাপেন্ডিসাইটিস হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যথানাশক ঔষধ, এ্যান্টাসিডস বা গরম প্যাড ব্যবহার করা যাবে না, এতে এপেন্ডিক্স ফেটে মারাত্মক বিপদ হতে পারে।

পানি শূন্যতায় শরীরে যা ঘটে

ডিএমপি নিউজঃ  শরীরে পানিশূন্যতা বা পানির স্বল্পতাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে ডিহাইড্রেশন। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীর থেকে প্রতিদিন মূত্র, ঘাম, বাম্পীভবন, মলত্যাগ ইত্যাদির মাধ্যমে পানি বের হয়ে যায়। এছাড়াও গরমের দিন অতিরিক্ত ঘাম এর ফলে অথবা ডায়রিয়া জনিত রোগ এর কারণেও শরীরে পানিস্বল্পতা দেখা দেয়।

পানিশূন্যতার কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলোঃ

পানি শূন্যতা যে কোন সময়ে হতে পারে তবে গ্রীষ্মকালে এর প্রকোপ বেড়ে যায় কারণ দেহে অন্য সময়ের তুলনায় বেশী পানির প্রয়োজন হয়। পানিশূন্যতার কারণে যে যে সকল সমস্যা দেখা যায়-

  • এজমা বা এলার্জি
  • ক্লান্তি বা অবসাদ
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • কোলেস্টেরল
  • ত্বকের সমস্যা
  • কিডনির সমস্যা
  • পরিপাকে সমস্যা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • সংযোগস্থলে ব্যথা
  • ওজন বৃদ্ধি
  • অকালে বার্ধক্য

পানি শূন্যতার লক্ষণ সমূহঃ

  • প্রচন্ড তৃষ্ণাবোধ
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • শারীরিক দুর্বলতা
  • মাথা ঘোরানো
  • বুক ধড়ফড় করা
  • প্রস্রাব কম হওয়া
  • গাঢ় হলুদ প্রস্রাব
  • কোষ্ঠ কাঠিন্য
  • জ্ঞান হারানো

কিভাবে শরীরের পানি স্বল্পতা দূর করা যায়?

১) সঠিক পানীয় নির্বাচনঃ এই গরমে চা কফি না হলে যেন চলেই না। চা কফি খেতে পারেন তবে অবশ্যই পরিমাণে বেশি নয়। কারণ এইসব পানীয় এক ধরণের ডাইউরেটিক (Diuretic) যা প্রস্রাবের সাথে শরীর হতে পানির নির্গমন বাড়িয়ে দেয়। তাই চা-কফির বদলে স্ট্যু, স্যুপ,গরম দুধ হতে পারে ভালো বিকল্প। এছাড়াও ফলের রসও খেতে পারেন।

২) ফল খানঃ ফলে প্রচুর পানি আছে। তাই পানি সল্পতা রোধে ফল গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে। এই শীতে বাজারে নানা ধরণের ফল ও শাকসবজি পাওয়া যায়। সেগুলো প্রচুর পরিমাণে খেতে পারেন।৩) ব্যাগে পানি রাখুনঃ স্কুল,কলেজ,ভার্সিটি বা কর্মক্ষেত্র; গন্তব্য যাই হোক,ব্যাগে পানির বোতল রাখুন। যাতে প্রয়োজনবোধে হাতের কাছেই পানি পেতে পারেন।

রিউমাটিক ফিভার/বাত জ্বরের লক্ষণ

রিউমাটিক ফিভার/বাত জ্বরের লক্ষণ

বাতজ্বর (Rheumatic fever) একটি প্রদাহজনিত রোগ যা হার্ট, জয়েন্ট, চর্ম, মস্তিষ্ক কে আক্রান্ত করতে পারে। সাধারণত গলায় সংক্রমণের ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পরে এই রোগ শুরু হয়। বিটা-হিমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাস নামক এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ হয়। বাতজ্বর রোগীদের বয়স সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবার ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যেও এই রোগ হতে পারে। বাতরোগের অনেক উপসর্গ ও বাতজ্বরের অনেক উপসর্গের মধ্যে মিল থাকায় এই রোগের নাম রাখা হয়েছে বাতজ্বর। বাতজ্বরের সাধারন লক্ষণসমূহ হচ্ছে জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা, ইরায়থেমা মারজিনেটাম ইত্যাদি। এ রোগে প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই হার্ট আক্রান্ত হয়। এই রোগে ব্যক্তির নিজের শরীরের টিস্যুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। আবার যাদের শরীরে এই রোগের জিন রয়েছে তারা অন্যদের তুলনায় খুব সহজেই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়াও পুষ্টিহীনতা, দারিদ্র্য ইত্যাদি কারনেও এ রোগ হয়।

বাতজ্বর নির্ণয়ের সময় কিছু জরুরি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে

  • বাতজ্বর নির্ণয় করা সম্ভব হলে একটি শিশুকে দীর্ঘদিন অর্থাৎ বছরের পর বছর ধরে পেনিসিলিন ইনজেকশন বা বড়ি গ্রহন করতে হয়। তাই, এ রোগ আছে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা শুরু করা উচিত।
  • বাতজ্বরে সাধারনত গলা, পিঠ, হাত ও পায়ের ছোট ছোট গিরা আক্রান্ত হয় না।
  • স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে টনসিল অথবা গলার প্রদাহ হলে রক্তে এএসও টাইটার বাড়ে। যেহেতু যেকোনো নিরীহ টনসিল সংক্রমণেই এ পরীক্ষার রিপোর্ট অস্বাভাবিক আসতে পারে, তাই রক্তে এএসও টাইটার বৃদ্ধি পেলেই এটি বাতজ্বরের কোনো নিশ্চিত ও একমাত্র প্রমাণ নয়। বাতজ্বরের অনেকগুলো সুস্পষ্ট লক্ষণ ও উপসর্গ রয়েছে, যেগুলোর সমন্বয়ে রোগটি নির্ণয় করতে হয়।
  • ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে হূৎপিণ্ডে প্রদাহ হয় না।

বাতজ্বর কেন হয়?

বাতজ্বরে সাধারনত বিটা হেমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাস নামক এক ধরনের জীবাণুর সংক্রমনের কারনে হয়। দারিদ্র্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, ঠাণ্ডা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এবং অজ্ঞতাই এ রোগের প্রধান কারণ। এছাড়াও, যেসব শিশু দীর্ঘ দিন ধরে খোসপাঁচড়া ও টনসিলের রোগে আক্রান্ত, তাদেরও বাতজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।

বাতজ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ

বাতজ্বরের মুখ্য ও গৌণ কিছু উপসর্গ আছে, যার সমন্বয়ে রোগ নির্ণয় করতে হয়। যদি দুটি মুখ্য উপসর্গ ও একটি গৌণ উপসর্গ মিলে অথবা একটি মুখ্য উপসর্গের সঙ্গে দুটি গৌণ উপসর্গ মিলে যায় এবং এর সঙ্গে স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রমাণিত হয়, তবেই কেবল বাত জ্বর হয়েছে বলে নিশ্চিত হতে হবে।

মুখ্য উপসর্গ

চামড়ার নিচে ক্ষুদ্র ব্যথাহীণ পিন্ড অথবা ত্বকে লালচে দাগ, অস্থিসন্ধির প্রদাহজনিত ব্যথা ও ফুলে যাওয়া, একটি সন্ধি ভালো হয়ে গেলে এটি আবার অন্যটিকে আক্রমণ করে, স্নায়ুজটিলতায় পেশির অস্বাভাবিক চলন, হূৎপিণ্ডের প্রদাহ বা কার্ডাইটিস ইত্যাদি।

গৌণ উপসর্গ

জ্বর, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, রক্তে ইএসআর বা সিআরপি বৃদ্ধি, অল্পতে ক্লান্ত বা দুবর্ল বোধ করা, বুকে ব্যথা বা বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট, ইসিজিতে বিশেষ পরিবর্তন ইত্যাদি।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

শিশুর গলায় ব্যথা হলে অথবা টনসিলের সমস্যা হলে এবং এর লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথেই শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহনের মাধ্যমে বাত জ্বর প্রতিরোধ করা যায়। কিছু কিছু লক্ষণ এবং উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে, যেমন- গলায় ব্যথার সাথে গলায় ফোলা ভাব থাকলে, কোন কিছু খেতে সমস্যা হলে, ঠান্ডার কোন উপসর্গ ছাড়াই নাক দিয়ে পানি পড়লে, গিরা বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকলে, নাক দিয়ে রক্ত আসলে যা সাধারনত ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায় ইত্যাদি।

কাদের বাতজ্বর হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

  • পরিবারের অন্য কেউ বাতজ্বরে আক্রান্ত থাকলে।
  • ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, সুষ্ঠ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব, দারিদ্র, পুষ্টির অভাব ইত্যাদি নানান কারন রোগের জীবাণু বিস্তারে সহায়ক।

কি ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে?

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু শারীরিক পরীক্ষা, রক্তের পরীক্ষা, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফী ইত্যাদি করতে হতে পারে।

চিকিৎসা

ব্যথা এবং রোগের অন্যান্য উপসর্গ ভালো না হওয়া পর্যন্ত রোগীকে প্রয়োজনে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে এবং আক্রান্ত জয়েন্ট নড়াচড়া করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ব্যথানাশক ঔষধ হিসেবে অ্যাসপিরিন খাওয়া যেতে পারে। প্রদাহ কমানোর জন্য অ্যাসপিরিনের পাশাপাশি কর্টিকোস্টেরয়েড যেমন- প্রেডনিসোলন ব্যবহার করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক যেমন- বেনজাথিন পেনিসিলিন, ফিনক্সিমিথাইল পেনিসিলিন, ইরাইথ্রোমাইসিন প্রভৃতি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেকোনো ঔষধ সেবনের পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে।

প্রতিরোধ

শিশুর পরিমিত পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। শিশুর শরীরের পুষ্টিমান সঠিক হলে গলায় জীবাণুর আক্রমণের পরেও বাত জ্বর হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। অপরদিকে ছোটবেলায় দীর্ঘদিন ধরে অপুষ্টিতে আক্রান্ত, যেসব শিশুর রক্তে আমিষ ও লৌহের অভাব রয়েছে, তাদের বাতজ্বর হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই শিশুর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।

বাতজ্বরের জীবাণু নাক, গলা ও ত্বকে বাস করে। অপরিষ্কার থাকলে, ঘরদোর পরিচ্ছন্ন-পরিচ্ছন্ন না রাখলে এ রোগের জীবাণু একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। প্রতিদিন সাবান দিয়ে গোসল করলে, হাত ও নাক পরিষ্কার রাখলে, প্রতিদিন অন্তত একবার গড়গড়া করে গলা পরিষ্কার করলে এ রোগের জীবাণুর আক্রমন প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। প্রথম থেকেই গলায় সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসা গ্রহন করলে বাত জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। স্ট্রেপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা কণ্ঠ নালীর সংক্রমণ হলে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে বাতজ্বর প্রতিরোধ করা যায়।

বাত জ্বর নিয়ে কিছু কথা

বাতজ্বর কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়

বাতজ্বর ছোঁয়াচে রোগ নয়। বাতজ্বরের রোগীর সঙ্গে থাকলে, খেলে, ঘুমালে এমনকি ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করলেও বাত জ্বর হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। গর্ভাবস্থায় মা থেকে শিশুর দেহে সংক্রমণের কোন আশঙ্কা নেই। কিন্তু স্ট্রেপ গলদাহের সময় কাছাকাছি থাকলে অথবা বেশি কাছ কথা বললে অন্যের মধ্যে জীবাণুর সংক্রমন হতে পারে।

জ্বর ও গিরাব্যথা হলেই কিন্তু বাতজ্বর নয়

গিরা ফোলা অথবা ব্যথাসহ জ্বর আরও অনেক রোগে হতে পারে, তাই গিরাব্যথা হলেই বাতজ্বর হয়েছে বলে মনে করা যাবে না। বাত জ্বরের গিরা ফোলা বা ব্যথা কিন্তু সহজেই ভালো হয়ে যায়। তাই চিকিৎসা নেওয়া সত্ত্বেও কোনো রোগীর গিরাব্যথা ভালো না হলে, সেক্ষেত্রে বাতজ্বর না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

রক্তের এএসও টাইটার বেশি হলেই কিন্তু বাতজ্বর নয়

বাতজ্বর নির্ণয়ের জন্য রক্তের কোনো সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা নেই। তাই সাধারনত বাত জ্বর সন্দেহ হলেই চিকিৎসকেরা রক্তের অ্যান্টি-স্ট্রেপটোলাইসিন-ও বা এ এস ও পরীক্ষা করে থাকেন। এএসও বেশি হওয়ার অর্থই কিন্তু বাতজ্বর নয়। বাতজ্বর হলে অবশ্যই উপরোল্লিখিত মূখ্য ও গৌণ লক্ষণ বা উপসর্গগুলো থাকতে হবে। কোন লক্ষণ বা উপসর্গের উপস্থিতি না থাকলে বাতজ্বর হয়নি বলে ধরা হবে।

উপসর্গ ভালো হলেও ওষুধ খাওয়া চালিয়ে যেতে হবে

উপসর্গ ভালো হয়ে গেলেই বাত জ্বরের চিকিৎসা বন্ধ করা যাবে না। বাতজ্বর একবার হলে বারবার হতে পারে। তাই বাতজ্বরে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পেনিসিলিন ব্যবহার করতে হবে, যাতে পুনরায় বাতজ্বরে আক্তান্ত হতে না হয়।