হঠাৎ হার্টের জটিলতা

0
109

আমাদের বুকের ভেতর হৃদ্‌যন্ত্র প্রতি মুহূর্তে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন করে দেহকে সচল রেখেছে। হৃৎপিণ্ডের ভেতরে তৈরি হওয়া বিদ্যুৎ এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত রক্তনালিতে প্রবহমান রক্ত কার্যত হার্ট ও প্রাণকে বাঁচিয়ে রাখে। হার্ট হলো আসলে একটি পাম্প, যা প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ বার হার্টবিট তৈরি করে বা হৃৎস্পন্দন তৈরি করে রক্তের প্রবাহকে সচল রাখে। এই হৃৎস্পন্দন তৈরিতে বা প্রবাহে কোনো গোলমাল হলে তাই আমাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এই পরিস্থিতির নাম অ্যারিদমিয়া।

হৃদ্‌রোগ এখনো মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বয়স, লিঙ্গ, জাতিসত্তা, পারিবারিক ইতিহাস হৃদ্‌রোগের অপরিবর্তনীয় ঝুঁকি। ধূমপান, উচ্চরক্তচাপ, রক্তে অধিক কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, মেনোপোজ, স্থূলতা, মানসিক চাপ, কায়িক শ্রমহীনতার মতো ঝুঁকি চাইলেই আমরা কমাতে পারি। হার্ট অ্যাটাক ও অ্যারিদমিয়ার কারণে মৃত্যু হয় বেশি। করোনারি আর্টারিতে চর্বির আস্তরণ পড়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়। হার্ট অ্যাটাকের পরবর্তী প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক সময়মতো আধুনিক চিকিৎসা বা রিপাফিউশনের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়া ধমনিতে রক্ত চলাচল পুনরায় চালু করতে না পারলে ৩০ মিনিটের মধ্যে হার্টের মাংসে পচন শুরু হয় এবং ছয় ঘণ্টায় গভীর পচন হতে পারে। রোগীর উপসর্গ শুরু হওয়ার দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে এই রিপাফিউশন করতে পারলে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া যায় ও হার্টকে বাঁচানো সম্ভব হয়। হার্ট অ্যাটাকের সময় প্রাইমারি এনজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে করোনারি আর্টারিতে জমাট বাঁধা রক্ত দ্রুত অপসারণ করাই এ রোগের সর্বাধুনিক চিকিৎসা। ক্ষেত্রবিশেষ ফিব্রিনোলাইটিক্স ও অন্যান্য ওষুধ দিয়েও হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হৃদ্‌যন্ত্রের দ্বিতীয় বড় ঘাতকের নাম অ্যারিদমিয়া। হৃৎপিণ্ডে তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বিদ্যুৎ তরঙ্গের কোনো অনিয়ম ঘটলে অ্যারিদমিয়া হয়। হঠাৎ হৃদ্‌রোগে মৃত্যুর অন্যতম কারণ এই অ্যারিদমিয়া। অনেক ক্ষেত্রেই অ্যারিদমিয়ার কারণ জানা যায় না। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যারিদমিয়ার কারণ হলো হৃদ্‌রোগ, মানসিক চাপ, ক্যাফেইন, তামাক, অ্যালকোহল, খাওয়ার বড়ি ইত্যাদি। স্বল্প মাত্রার অ্যারিদমিয়ার চিকিৎসা লাগে না। আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অ্যারিদমিয়ায় আকস্মিক মৃত্যু অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here