রমজানে ডায়বেটিস রোগীদের করনীয়

0
299

রমজান মাসে মুসলিমগণের খাদ্যাভ্যাসে হঠাৎ করে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ডায়াবেটিস রোগ এবং এর চিকিৎসা যেহেতু খাদ্য গ্রহণের সাথে সম্পর্কযুক্ত, তাই রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের পরিবর্তিত খাদ্যাভ্যাসের সাথে মিলিয়ে  চিকিৎসায় বিশেষ পন্থা অবলম্বন করতে হয়।

পবিত্র রমজানে স্বাভাবিকভাবেই পরির্বতন হবে ওষুধ বা ইনসুলিন নেয়ার মাত্রা ও সময়সূচি। সর্বপ্রথম প্রস্তুতি হিসেবে ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত ডায়াবেটিসে আক্রন্ত রোগীর শরীর রোজা রাখার জন্য উপযুক্ত কি না।

 

১)  ডায়াবেটিস পরীক্ষাঃ

যাদের ডায়াবেটিস মাপার মেশিন আছে (গ্লুকোমিটার), তাদের প্রায়শ:ই রোজা থাকাকালীন রক্তের গ্লুকোজ মাপতে হবে। আলেমগনের অভিমত এতে রোজার কোন ক্ষতি হবে না।

বিশেষতঃ নিম্নলিখিত দিনগুলিতে-

  • রোজা শুরু হবার প্রথম দিন
  • ঔষধের ডোজ বাড়ানো-কমানোর সময়
  • সবকিছু নিয়ন্ত্রনে থাকলেও প্রতি সপ্তাহে অন্ততঃ একবার

এবং প্রয়োজনে নিম্নলিখিত সময়ে-

  • সেহেরীর ২-৩ ঘন্টা পর
  • ইফতারীর ১ ঘন্টা আগে
  • যে কোন সময় অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে গেলে/বুক ধড়ফড়ানি এবং অতিরিক্ত ঘেমে গেলে

{ রোজা ভেঙ্গে ফেলা লাগবে যদি-

  • সেহেরীর ২-৩ ঘন্টা পর রক্তে গ্লুকোজ ৩.৯ বা তার নিচে নামে
  • যে কোন সময়ে রক্তে গ্লুকোজ ৩.৩ বা তার নিচে নামে
  • যে কোন সময়ে রক্তে গ্লুকোজ ১৬.৭ বা তার উপরে ওঠে }

 

২) ঔষধঃ

রোজায় খাবারের সময়সূচি পরিবর্তনের সঙ্গে ওষুধ এবং ইনসুলিনের সময় ও মাত্রা অবশ্যই পরিবর্তিত হবে। রমজান মাসে ডায়াবেটিস রোগীর নতুন নিয়মসূচির জন্য আগে থেকেই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন।

ইনসুলিনঃ

  • যারা ২ বেলা ইনসুলিন নিয়ে থাকেন-
  • তাদের সকালের ডোজ (যা বেশী মাত্রায় থাকে) নিতে হবে ইফতারীর সময় (আজানের পর পর)।
  • রাতের ডোজ (যা কম মাত্রায় থাকে) নিতে হবে সেহেরীর সময়। এই ডোজ প্রথমাবস্থায় অর্ধেক কম করে শুরু করা যেতে পারে।

মুখে খাবার ওষুধঃ

  • যে সমস্ত ঔষধ আহারের পূর্বে খাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া থাকে-যেমন, গ্লিমেপিরাইড গ্রুপের ওষুধ ১, ২, ৩ মি. গ্রা. এর এবং গ্লিক্লাজাইড গ্রুপের ওষুধ ৮০  মি. গ্রা. এর সেগুলোর সকালের ডোজ খেতে হবে  ইফতারের সময় আজানের পরপর, আর যদি রাতের ডোজ দেওয়া থাকে- তা খেতে হবে সেহেরীর সময় অর্ধেক ডোজে ( অথবা বাদ দেওয়াই  ভাল)।

আর গ্লিক্লাজাইড এম. আর. গ্রুপের ওষুধ ৬০ ও ৩০  মি. গ্রা. এম. আর, যেটা সকালে খেতে হতো, সেটা ইফাতারির সময় আজানের পরপর একই ডোজে খেতে হবে।

  • যে সমস্ত ঔষধ আহারের পর খাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া থাকে- যেমন মেটফরমিন গ্রুপের ঔষধ যেমন ৫০০ বা ৮৫০ মি. গ্রা. এর, ২ বেলা সকাল ও রাত হলে, সেগুলো ইফতারি এবং সেহেরীর পর খেয়ে নিলেই চলবে।

আর ৩ বেলা হলে, সকাল ও দুপুরের ডোজ একসাথে ইফতারিতে এবং রাতের ডোজ সেহেরিতে খাবার পর খেতে হবে। অথবা ৩ বেলার ওষুধ, ইফতারি, সন্ধ্যা রাত ও সেহেরিতে ৩ বারে খাওয়া যেতে পারে, সেক্ষেত্রে সন্ধ্যা রাতের খাবার ইফতারির পর একটু দেরিতে রাত ৯টা বা ১০টার সময় খেতে হবে।

অন্যান্য ঔষধ যেমন ১৫ মি. গ্রা.  কিম্বা ৫০ মি. গ্রা.  এর কোন ঔষধ থাকলে তা ইফতারীর পর/সন্ধ্যা রাত/সেহেরী যে কোন সময়ে খেয়ে নিলেই চলবে।

 

৩) ব্যায়ামঃ

রমজানে অতিরিক্ত ব্যায়ামের তেমন প্রয়োজন নেই। বিশেষতঃ তারাবীর নামাজে যারা অভ্যস্ত তাদের তো নয়ই।

তবে যাদের ডায়াবেটিস খুব বেশি অনিয়ন্ত্রিত (যেমন ১৫ বা তার বেশী), তারা ইফতারের পর কিছুটা হাটতে পারেন।

 

৪) খাদ্যাভ্যাসঃ

বাস্তব কথা হোল রমজানে খাদ্যগ্রহনের হার (অর্থাৎ মোট ক্যালরি) যেখানে কমাটাই স্বাভাবিক ছিল, সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বরং তা বেড়ে যায়। 

  • রমজানে খাদ্য তালিকা (ইফতারী সহ) যা ডায়াবেটিস বইতে দেওয়া আছে (এটা মেনে চলাটাই যথেষ্ট হবে)
  • ইফতারীর পর থেকে সেহেরী পর্যন্ত প্রচুর পানি পান করতে হবে।

ডা. মুহাম্মাদ জুবায়ের হোসেন

এমবিবিএস, এমআরসিপি

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here