ক্যান্সার, যা সকলের জানা দরকার

ক‍্যান্সার কি?

শরীরের কোন কোষ যখন অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বাড়তে থাকে  তখন তা একটা চাকা বা পিন্ড তৈরি করে । যদি তা আশেপাশের টিস‍্যু ভেদ করার ক্ষমতা সম্পন্ন হয় তবে তাকে ক‍্যান্সার বলে। যদি তা আশেপাশের টিস‍্যু ভেদ করার ক্ষমতা সম্পন্ন না হয় তবে তাকে বিনাইন টিউমার বলে।

 

বাংলাদেশের প্রধান প্রধান ক‍্যানসার সমূহ।

পুরুষদের ক্যান্সার

১. ফুসফুস ক্যান্সার

২. লিম্ফোমা

৩. খাদ্যনালীর ক্যান্সার

৪. পাকস্থলির ক্যান্সার

৫. লিভার ক্যান্সার

 

মহিলাদের ক্যান্সার

১. স্তন ক্যান্সার

২. জরায়ুমুখের ক্যান্সার

৩. ফুসফুস ক্যান্সার

৪. লিম্ফোমা

৫. খাদ্যনালীর ক্যান্সার

 

ক‍্যান্সারের প্রধান লক্ষণ সমূহ

১. অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন হ্রাস।

২. প্রতিনিয়ত  স্বল্পমাত্রার শারীরিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি।

৩. তিল ও আচিলের সুস্পষ্ট পরিবর্তন।

৪. ক্ষত সারতে বিলম্ব হ‌ওয়া।

৫. স্বাভাবিক প্রসাব ও পায়খানার অভ‍্যাসের পরিবর্তন।

৬. খাদ‍্যে অরুচি ও বমি বমি ভাব।

৭. ত্বকের স্থূলতা ও চাকা।

৮. অস্বাভাবিক রক্তপাত।

৯. প্রতিনিয়ত ক্লান্ত হয়ে পড়া।

১০. খুসখুসে কাশি ও স্বরভ‌ঙ্গ।

 

ক‍্যান্সার প্রতিরোধের উপায়

১. ধূমপান ও মদ‍্যপান থেকে বিরত থাকুন। পরোক্ষ ধূমপান থেকেও দূরে থাকুন।

২. ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন।

৩. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন।

৪. স্বাস্থ‍্যকর খাবার খান।

৫. পরিবেশ দূষণ থেকে নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করুন।

৬. তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে দূরে থাকুন।

৭. সময়মত টিকা গ্ৰহন: হেপাটাইটিস বি, এইচ পি ভি

৮. শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান।

সচেতনতাই হোক ক‍্যান্সার প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

 

ক্যান্সারের চিকিৎসা

ক্যান্সারের চিকিৎসার প্রকারভেদ

১. কেমোথেরাপি

২. অপারেশন

৩. রেডিওথেরাপি

৪. হরমোন থেরাপি

৫. ইমুনোথেরাপি

৬, বায়োলজিক্যাল থেরাপি

 

ক্যান্সারের মূল চিকিৎসার দায়িত্ব হল ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের বা অঙ্কোলজিস্টের। তিনি কখন অপারেশন করলে বা কেমোথেরাপি দিলে ভাল ফল পাওয়া যাবে তা বলে দেবেন।

 

ক্যান্সারের বেশ ভাল চিকিৎসা দেশেই সম্ভব। সরকারি পর্যায়ে বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল হলো জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী ঢাকা। এছাড়াও বেশিরভাগ পুরাতন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসা করা হয়। বেসরকারী পর্যায়েও অনেক ক্যান্সার হাসপাতাল আছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসা করলে ক্যান্সার নিরাময় করা সম্ভব। এজন্য ক‍্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতাই মূল উপায়।

ডাঃ মো: লুৎফুল কবীর
এসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার
জাতীয় ক‍্যান্সার গবেষণা ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতাল

কোষ্ঠকাঠিন্য

কোষ্ঠকাঠিন্যের সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিন।

বয়স্ক এবং যারা পরিশ্রমের কাজ করেন না, এদের মধ্যে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য হয় তাদের উচিত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ

১. আঁশযুক্ত খাবার এবং শাকসবজি কম খাওয়া

২. পানি কম খাওয়া

৩. দুশ্চিন্তা

৪. কায়িক পরিশ্রমের অভাব

৫. অন্ত্রনালিতে ক্যানসার

৬. ডায়াবেটিস

৭. মস্তিষ্কে টিউমার ও রক্তক্ষরণ

৮. দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকা

৯. বিভিন্ন ধরনের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ

১. শক্ত ও কঠিন মল

২. মলত্যাগে অনেক বেশি সময় লাগা

৩. অনেক বেশি চাপের দরকার হওয়া

৪. অধিক সময় ধরে মলত্যাগ করার পরও অসম্পূর্ণ মনে হওয়া

৫. মলদ্বারের আশপাশে ও তলপেটে ব্যথা

৬. প্রায়ই আঙুল, সাপোজিটরি বা অন্য কোনো মাধ্যমে মল বের করার চেষ্টা

কোষ্ঠকাঠিন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। এর চিকিৎসা না করা হলে যেসব সমস্যা হতে পারে

১. মল ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া

২. পাইলস

৩. এনাল ফিশার

৪. মলদ্বার বাইরে বের হয়ে আসা

৫. মানসিকভাবে অশান্তি

৬. প্রস্রাবের সমস্যা

৭. খাদ্যনালিতে প্যাঁচ লেগে পেট ফুলে যাওয়া

৮. খাদ্যনালিতে আলসার বা ছিদ্র হয়ে যাওয়া l

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়ঃ

১. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে;

২. বেশি করে পানি খেতে হবে;

৩. দুশ্চিন্তা দূর করতে হবে;

৪. যারা সারাদিন বসে কাজ করেন তাদের নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে

৫. ফাস্ট ফুড, ভাঁজা পোড়া খাবার, গরু ও খাশির মাংস এবং অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাবার যেগুলো মল শক্ত করে তা বাদ দিলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হতে পারে।

৬. বয়স্ক এবং যারা পরিশ্রমের কাজ করেন না, এদের মধ্যে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য হয় তাদের উচিত কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ নির্ণয় করে সে হিসেবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া।

 কোষ্ঠকাঠিন্যের নিরাময়ে ঘরোয়া টিপসঃ

ইসবগুল

দীর্ঘমেয়াদি হজমের সমস্যা সমাধানের জন্য অত্যন্ত প্রচলিত একটি পদ্ধতি হলো ইসবগুলের সরবত খাওয়া। ইসবগুলের সরবত খেলে পেট ঠান্ডা থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়। ২ চা চামুচ ইসুফগুলের ভুসি ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে সাথে সাথে খেয়ে ফেলুন;

ঘৃতকুমারীর রস (অ্যালোভেরা)

যাদের হজমে প্রায়ই গন্ডগোল হয় তাঁরা ঘৃতকুমারীর রস খেলে উপকার পাবেন। ঘৃতকুমারীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে। ঘৃতকুমারী পাতা থেকে চামচ দিয়ে রস বের করে নিন। এরপর ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার রসে কিছুটা পানি মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে খান। এতে হজম শক্তি বাড়বে, পরিপাকতন্ত্র সতেজ থাকবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে। আর ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

পেঁপে, বেল, পেয়ারা বা আনারস

এসব ফল হজম সমস্যা সমাধানের জন্য বেশ উপকারী । পেঁপেতে আছে পাপেইন ও কাইমোনপ্যাপাইন নামক এনজাইম। এই দুটি এনজাইমই হজমে সহায়ক। এই এনজাইম দুটি পেট পরিষ্কার করে এবং হজম সমস্যার সমাধান করে। আনারসে ব্রোমেলাইন এনজাইম আছে। ব্রোমেলাইন বদহজমের জন্য দ্বায়ী প্রোটিনগুলোকে ধ্বংস করে। ফলে আনারস খেলে পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া ও বদহজম সমস্যার সমাধান হয়। এসব ফল জুস করে কিংবা টুকরো করে চিবিয়ে খেলে পেটের সব ধরণের হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

টক দই

টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত উপকারী। এটা শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং উপকারি ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয়। টক দইয়ে আছে ল্যাকটিক অ্যাসিড, যা কোষ্টকাঠিন্য দুর করে। এটি কোলন ক্যান্সার রোগীদের খাদ্য হিসাবে উপকারি। টক দই শরীরে টক্সিন জমতে বাধা দেয় | তাই অন্ত্রনালী পরিষ্কার রেখে শরীরকে সুস্থ রাখে ও বুড়িয়ে যাওয়া বা অকাল বার্ধক্য রোধ করে|

মৌরি

যে কোনো মশলার দোকানেই মৌরি কিনতে পাওয়া যায়। খেতে কিছুটা মিষ্টি স্বাদের এই মশলাটি। প্রতিবার খাওয়ার পরে অল্প কিছু শুকনো মৌরি চিবিয়ে খেয়ে নিন। সকালের নাস্তায়, দুপুরের খাবারে কিংবা রাতের খাবার খাওয়ার পড়ে আধা চামচ বা তার চেয়ে একটু কম শুকনো মৌরি ভালো করে চিবিয়ে গিলে ফেলুন। শুকনা গিলতে সমস্যা হলে একটু পানি দিয়ে গিলুন। নিয়মিত খেলে হজমের সমস্যা দূরে থাকবে চিরকাল এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

আদা ও লেবু

হজমের গন্ডগল ঠিক করতে আদাও লেবুর রস মিশিয়ে খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। ১ চা চামচ আদা বাটা এবং অর্ধেকটা লেবুর রস হাল্কা গরম পানির সাথে এক সাথে মিশিয়ে পান করুন। হজমের গন্ডগোল থেকে নিস্তার মিলবে।

কমলার রস

দুটি কমলা লেবুর রস প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেলে, ৮-১০ দিনের মধ্যে স্থায়ী ভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় হয়।

রুটি

তিন ভাগের দু’ভাগ গম এবং একভাগ ছোলা মিশিয়ে আটা তৈরি করে, রুটি বানিয়ে খেলেও পেট পরিষ্কার থাকে।

শাক সবজি ও ফল

পালং শাক, পুই শাক, কলমি শাক বা শাকের স্যুপ, বেথোর শাক, মেথির শাক, টমেটো, গাজর, কাঁচা পিঁয়াজ, পুদিনা, সফেদা, আমলকি, কিছমিছ, আলু বোখারা ও অন্যান্য শাঁস বা ফাইবার যুক্ত খাবার খেলেও পেট পরিষ্কার হয়ে মলত্যাগ হবে।

ব্রণ

ব্রণ কি

ব্রণের অন্য নাম এক্নি (ACNE)। এক্নি বা ব্রণ হচ্ছে আমাদের শরীরের ত্বকের ফলিকলের এক প্রকার দীর্ঘমেয়াদী রোগ। মুখমন্ডল, গলা, বুকে ও পিঠের উপরিভাগ আর হাতের উপরিভাগে এই রোগটা হয়। এসব জায়গায় ছোট ছোট দানা, ছোট ছোট ফোড়া, সিস্ট এমনকি নোডিউল (Nodule) হতে পারে। এ রোগটা মুখমন্ডলেই সাধারণত বেশি হয়। ব্রণ বেশিরভাগ সময়ে গালে, নাকে কপালে আর থুতনিতে হয়ে থাকে।

পিউবার্টি বা বয়ঃসন্ধিকালে হরমোন টেস্ট্রোরেন আর প্রোজেস্ট্রোরেনের প্রভাবে ত্বকের সিবেসিয়াস গ্রন্থি বেশি করে তেল নিঃসরণ শুরু করে। তবে এই তেল বের হয়ে আসতে পারে না। কারণ তেল বেরিয়ে আসার পথটি ক্রটিযুক্ত থাকে। তাই তেল গ্রন্থির ভিতর জমতে শুরু করে। জমতে জমতে এক সময়  গ্রন্থিটা ফেটে যায়। ফলে তেল আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন ব্যাকটেরিয়া তেলকে ভেঙে টিস্যুতে ফ্যাটি এসিড তৈরী করে। এই ফ্যাটি এসিড ত্বকের ভেতর সৃষ্টি করে প্রদাহ। এর ফলে চামড়ার মধ্যে দানার সৃষ্টি হয়। যা ব্রণ নামে পরিচিত।

কাদের বেশী হয় 

  • বয়ঃসন্ধিকালে এ রোগটা শুরু হয়। ১৮ থেকে ২০ বছরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এ রোগটা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বলা যেতে পারে, এটা টিনএজারদের রোগ।
  • অনেকে অনেক বছর ধরে এ রোগ  ভোগে। ২০ বছর বয়সের পর রোগটা কমে আসে। তবে কিছু মেয়েদের ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত ও এ রোগ দেখা যায় । ছেলেদের বেলায় যদি ২১ বছরের পরও রোগটা হয় তবে তাকে একনি কংলোবেটা বলে।

প্রতিরোধের উপায় 

  • মুখের তৈলাক্ততা কমাতে হবে।
  • তৈলাক্ততা কমানোর জন্য সাবান দিয়ে দিনে কয়েকবার মুখ ধুতে হবে।
  •  তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে হবে, সেটাও বারবার ধুয়ে পরিস্কার রাখতে হবে।
  •  বেশি করে শাক-সব্জি খেতে হবে ।
  •  তৈলাক্ত, ঝাল, ভাজাপোড়া খাবারসহ চকলেট, আইসক্রিম ও অন্যান্য ফাস্টফুড খাওয়া কমাতে হবে।
  • ব্রণ একবার হয়ে গেলে খোঁটা যাবে না। খুঁটলে গর্ত হয়ে যাবে। তাছাড়া হাত আর নখ থেকে জীবাণু বেয়ে ব্রণকে আক্রান্ত করে। ফলে ব্রণটা ফোঁড়ায় রূপান্তরিত হয়। মুখে গর্ত তৈরী করে। তাই হাত দিয়ে বার বার ব্রণ স্পর্শ করা যাবে না বা গালানো যাবে না।
  • অনেকে ফর্সা হওয়ার জন্য আর ব্রণের প্রতিকার হিসেবে স্টেরয়েড অয়েনমেন্ট ব্যবহার করে। এটা কোনোভাবেই করা যাবে না। এতে চামড়ার প্রচন্ড ক্ষতি হয়। স্টেরয়েড অয়েনমেন্ট ব্যবহার করার জন্য উল্টো ব্রণের সৃষ্টি হতে পারে।
  • ব্রণের জন্য যে দাগ গর্ত হয়, তা দূর করার ব্যবস্থা এখন দেশেই রয়েছে। তার মধ্যে পাঞ্চ স্কাররিমুভার, স্কার এলিভেশন, ডার্মাব্রেশন পদ্ধতিতে গর্ত আর দাগ দূর করে  মুখের ত্বক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া যাচ্ছে।
  • ব্রন পেকে গেলে বা বেশী হয়ে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

ব্রণের দাগ ও গর্ত কিভাবে দূর করা করা যায়? 

ব্রণের জন্য যে দাগ গর্ত হয়, তা দূর করার ব্যবস্থা এখন দেশেই রয়েছে। তার মধ্যে পাঞ্চ স্কার  রিমুভার, স্কার এলিভেশন, ডার্মাব্রেশন পদ্ধতিতে গর্ত আর দাগ দূর করে  মুখের ত্বক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া যাচ্ছে।

জন্ডিস

জন্ডিস

ত্বক, মিউকাস মেমেব্রেণ এবং চোখ হলুদ হয়ে যাওয়াকে জন্ডিস বলে। সাধারণত: আমাদের শরীরে প্রতিদিন ১% পুরনো লোহিত কণিকার স্থলে নতুন লোহিত রক্ত কণিকা স্থানান্তরিত হয়। পুরনো লোহিত রক্ত কণিকা গুলো বিলিরুবিন উৎপন্ন করে, যা পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। কোন কারণে শরীর থেকে বিলিরুবিন না বের হতে পারলে এই অধিক বিলিরুবিনের জন্য জন্ডিস হয়। বিলিরুবিনের কারণে ত্বক, চোখ ইত্যাদি হলুদ হয়ে যায়। জন্ডিসের কারণে অন্যান্য সমস্যাও দেখা দেয়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

শিশু এবং বড়দের ত্বক, চোখ ইত্যাদি হলুদ হয়ে গেলো জন্ডিস হয়েছে বলে মনে করতে হবে এবং দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। 

কি ধরণের পরীক্ষানিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে

  • রক্ত পরীক্ষা
  • যকৃতের কার্যকারিতা এবং কোলেস্টরল পরীক্ষা
  • প্রোথোম্বিন টাইম (Prothrombin time)
  • পেটের আল্ট্রাসাউন্ড
  • রক্তের পরীক্ষা
  • প্রস্রাব পরীক্ষা
  • যকৃতের বায়োপসি

কি ধরণের চিকিৎসা আছে

রোগের ধরণ, মাত্রা, রুগীর বয়সের উপর জন্ডিসের চিকিৎসা নির্ভর করে।  চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে:

  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে ঔষধ সেবন এবং অন্যান্য বিষয় মেনে চলতে হবে
  • শিশুদের ফিজিওলজিকাল জন্ডিসের (Physiological Jaundice) ক্ষেত্রে কিছু দিনের লাইট থেরাপী দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে
  • নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে বিলিরুবিনের মাত্রা মারাত্মক আকার ধারণ করলে রক্ত পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে

জন্ডিস রোগীর বাড়ীতে যত্ন

  • চিকিৎসার আগে জন্ডিস হবার কারণ খুঁজে বের করতে হবে
  • কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে এবং তাজা ফল খেতে হবে
  • রান্না সহ বিভিন্ন কাজে টিউবয়েলের পানি ব্যবহার করতে হবে
  • হাতের নখ কেটে ছোট রাখতে হবে
  • রুগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে
  • খাবার-দাবার সবসময় ঢেকে রাখতে হবে
  • স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে হবে

জন্ডিস কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়

  • যকৃতের কার্যকারিতার সাথে জন্ডিসের কারণ জড়িত তাই যকৃত এবং এর কার্যকারিতা যেন ভালো থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে
  • সুষম খাবার খেতে হবে, অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না
  • মাদক, ধূমপান, শিরাপথে নেশা দ্রব্য নেওয়া পরিহার করতে হবে
  • জন্ডিসের টীকা নিতে হবে
  • নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে

জন্ডিস হবার কারণ গুলো কি কি?

উত্তর.জন্ডিস হবার কারণ গুলো হলো:

  • যকৃতের কার্যক্ষমতার উপর চাপ পড়লে
  • যকৃত অকেজো হয়ে গেলে
  • পিত্ত থেকে বিলিরুবিন অন্ত্রে যেতে না পারলে

শিশুদের ক্ষেত্রে

  • পিত্তনালী চিকন থাকা বা তৈরী না হওয়া (Biliary Atresia)
  • জন্ম থেকেই বিলিরুবিনের তৈরী ও নি:সরণে সমস্যা থাকলে

বড়দের ক্ষেত্রে

  • হেপাটাইটিস এ, বি,সি, ডি, ই এর জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে 
  • মদ্য পান করার কারণে যৃকতে সমস্যা হল্যে 
  • সংক্রমণ, টিউমার বা পিত্তপাথুরীর জন্য পিত্তনালী বন্ধ বা সংকীর্ণ হয়ে গেলে 
  • জন্ম থেকেই বিলিরুবিন প্রক্রিয়ায় সমস্যা থাকলে 
  • মাদক সেবনের কারনে  হেপাটাইটিস হলে 
  • রক্ত অতিরিক্ত ভাঙ্গার কারণে রক্তশূণ্যতা হলে (Hemolytic anemia) 

 

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস একটি বিপাক জনিত রোগ। আমাদের শরীরে ইনসুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা আপেক্ষিক ঘাটতির কারনে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময়  তা প্রস্রাবের সংগে বেরিয়ে আসে। এই সামগ্রিক অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে। ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক কোন রোগ নয়।

ডায়াবেটিস হয়েছে কিভাবে বুঝবেন 

ডায়াবেটিস হলে সাধারণত: যেসব লক্ষন ও উপসর্গ গুলো দেখা দেয়:

  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
  • খুব বেশী পিপাসা লাগা
  • বেশী ক্ষুধা পাওয়া
  • যথেষ্ঠ খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
  • ক্লান্তি ও দুর্বলতা বোধ করা
  • ক্ষত শুকাতে দেরী হওয়া
  • খোশ-পাঁচড়া,ফোঁড়া প্রভৃতি চর্মরোগ দেখা দেওয়া
  • চোখে কম দেখা

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ

ডায়াবেটিসের মূলত চারটি ধরন রয়েছে।

) ধরন ১ (টাইপ.)- এই ধরনের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন একেবারেই তৈরী হয় না। সাধারণতঃ ৩০ বৎসরের কম বয়সে (গড় বয়স ১০-২০ বৎসর) এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। সু্‌স্থ্য থাকার জন্য এ ধরনের রোগীকে ইনসুলিন নিতে হয়। এই ধরনের রোগীরা সাধারনত কৃষকায় হয়ে থাকেন।

) ধরন ২ (টাইপ.)-এই শ্রেণীর রোগীর বয়স অধিকাংশ ক্ষেত্রে ত্রিশ বৎসরের উপরে হয়ে থাকে। তবে ত্রিশ বৎসরের নিচে এই ধরনের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এই ধরনের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন তৈরী হয় তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ঠ নয় অথবা শরীরে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যায়। অনেক সময় এই দুই ধরনের কারণ একই সাথে দেখা দিতে পারে। এই  ধরনের রোগীরা ইনসুলিন নির্ভরশীল নন। অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যাভাসের পরিবর্তন এবং নিয়িমিত ব্যয়ামের সাহায্যে এদের চিকিৎসা করা সম্ভব। এই ধরনের রোগীরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে স্থূলকায় হয়ে থাকেন।

) অন্যান্য নির্দিষ্ট কারণ ভিত্তিক শ্রেণী

  • জেনেটিক কারনে ইনসুলিন তৈরী কম হওয়া
  • জেনেটিক কারনে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া
  • অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ
  • অন্যান্য হরমোনের আধিক্য
  • ঔষধ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শ
  • সংক্রামক ব্যধি
  • অন্যান্য কোন প্রতিরোধ ক্ষমতার জটিলতা

এই ধরনের রোগী ক্ষীণকায় ও অপুষ্টির শিকার হয়ে থাকে এবং ইনসুলিন ছাড়া অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। এই ধরনের রোগীর বয়স ৩০ বৎসরের নিচে হয়ে থাকে।

)গর্ভকালীন ডায়াবেটিসঅনেক সময় গর্ভবতী অবস্থায় প্রসূতিদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। আবার প্রসবের পর ডায়াবেটিস থাকে না। এই প্রকারের জটিলতাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। গর্ভবতী মহিলাদের ডায়াবেটিস হলে গর্ভবতী,ভ্রুণ,প্রসূতি ও সদ্য-প্রসূত শিশু সকলের জন্যই বিপদজনক হতে পারে। বিপদ এড়ানোর জন্য গর্ভকালীন অবস্থায় ডায়াবেটিসের প্রয়োজনে ইনসুলিনের মাধ্যমে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। এই ধরনের রোগীদের প্রসব হাসপাতালে করা প্রয়োজন।

কি কি পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে

  • খালি পেটে রক্ত পরীক্ষা
  • ভরা পেটে রক্ত পরীক্ষা
  • প্রস্রাব পরীক্ষা
  • কোলেস্টরল,থাইরয়েডের কার্যাবলী,যকৃত এবং কিডনী পরীক্ষা

ডায়াবেটিসের চিকিৎসা

ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ সারানো বা নিরাময় করা যায় না। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহন করলে এ রোগকে খুব ভালভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রায় স্বাভাবিক কর্মঠ জীবন যাপন করা যায়। এবং এই বিষয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়

) নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ -ডায়াবেটিস হলে খাদ্যের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। খাদ্যের নিয়ম মেনে চলার প্রধান উদ্দেশ্য থাকে: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, স্বাস্থ্য ভাল রাখা।

  • আঁশবহুল খাবার ডাল, শাক (পালং, পুই, কচু, কলমি, লাল শাক, সবজি (ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, কাচা পেঁপে, চাল কুমড়া, ডাঁটা, চিচিঙ্গা, পটল, টমেটো, শশা), টক ফল (কচি ডাব, লেবু, আমড়া, কাল জাম, কামরাঙ্গা, জাম্বুরা, বাঙ্গি, কাচা আম, পেয়ারা, ইত্যাদি) ইচ্ছামতো খাওয়া যাবে।
  • শর্করা জাতীয় খাদ্য, মিষ্টি ফল ও মিষ্টি সবজি পরিমানমতো খেতে হবে।
  • উদ্ভিদ তেল, অর্থাৎ সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি এবং সব ধরনের মাছ খাওয়া অভ্যাস করতে হবে
  • চিনি/গুঁড়-মিষ্টি জাতীয় খাবার, শরবত  (কেক, পেস্তি, জ্যাম, জেলি, মিষ্টি, মিষ্টি বিস্কুট, সফট ড্রিক কোক, পেপসি, ট্যাং, ওভাল্টিন, হরলিক্স কনডেন্সড মিল্ক, আইস্ক্রিম ইত্যাদি) খাওয়া যাবেনা।  প্রয়োজনে ডায়াবেটিক চিনি ও ডায়েট ড্রিংকস খাওয়া যাবে।
  • ঘি, মাখন, চর্বি,ডালডা, মাংস, তেলে ভাঁজা খাবার, ফাস্ট ফুড  ইত্যাদি কম খেতে হবে।
  • অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হলে অর্থাৎ অসু্‌স্থ অবস্থায় বিশেষ খাদ্য-ব্যবস্থা জেনে নিতে হবে।

) ব্যায়াম-রোগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ব্যায়াম বা শরীর চর্চার ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম করলে শরীর সু্‌স্থ থাকে,ইনসুলিনের কার্যকারিতা ও নি:সরনের পরিমাণ বেড়ে যায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে। প্রতিদিন সকালে অথবা বিকালে অন্তত: ৩০-৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটতে হবে ।

) ঔষধসকল ডায়াবেটিক রোগীকেই খাদ্য,ব্যায়াম ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। অনেক ডায়বেটিস রোগীর ক্ষেত্রে খাবার বড়ি অথবা ইনসুলিন ইনজেকশনের দরকার হতে পারে।

) শিক্ষা ডায়াবেটিস আজীবনের রোগ। সঠিক ব্যবস্থা নিলে এই রোগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ব্যবস্থাগুলি রোগীকেই নিজ দায়িত্বে মেনে চলতে হবে। এ রোগের সুচিকিৎসার জন্য ডায়াবেটিস সর্ম্পকে রোগীর যেমন শিক্ষা প্রয়োজন, তেমনি রোগীর নিকট আত্মীয়দেরও এই রোগ সর্ম্পকে কিছু জ্ঞান থাকা দরকার।

কাদের ডায়াবেটিস হতে পারে?

যে কেউ যে কোন বয়সে যে কোন সময় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে তিন শ্রেণীর লোকের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে:

  • যাদের বংশে, যেমন-বাবা-মা বা রক্ত সর্ম্পকিত নিকট আত্মীয়ের ডায়াবেটিস আছে
  • যাদের ওজন অনেক বেশী
  • যারা ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের কোন কাজ করেন না
  • বহুদিন ধরে কর্টিসোল জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করলে

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থেকে কি ধরনের বিপদ হতে পারে?

  • পক্ষাঘাত
  • স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা
  • হুদরোগ
  • পায়ে পচনশীল ক্ষত
  • চক্ষুরোগ
  • মুত্রাশয়ের রোগ, প্রস্রাবে আমিষ বের হওয়া, পরবর্তীতে কিডনীর কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া
  • পাতলা পায়খানা
  • যক্ষা
  • মাড়ির প্রদাহ
  • চুলকানি
  • ফোঁড়া
  • পাঁচড়া
  • রোগের কারণে যৌন ক্ষমতা কমে যাওয়া
  • মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশী ওজনের শিশু, মৃত শিশুর জন্ম, অকালে সন্তান প্রসব, জন্মের পরই শিশুর মৃত্যু এবং নানা ধরনের জন্ম ত্রটি দেখা দিতে পারে

কিভাবে বুঝবেন আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে?

উত্তর.ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা বোঝার উপায় হচ্ছে রক্তের শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা। যদি খালি পেটে রক্তের শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা ৬.১ মিলি মোল/লিটার থাকে এবং খাওয়ার পর ৮.০ মিলি মোল/লিটার পর্যন্ত হয়, তবে ডায়াবেটিস খুব ভাল নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে করতে হবে।

ডায়াবেটিস কি সারানো যায়?

উত্তর. ডায়াবেটিস রোগ সারে না । এ রোগ সারা জীবনের রোগ। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহন করলে এ রোগকে খুব ভালভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রায় স্বাভাবিক কর্মঠ জীবন যাপন করা যায়।

যা মনে রাখতে হবে

  • নিয়মিত ও পরিমাণ মতো সুষম খাবার খেতে হবে
  • নিয়মিত ও পরিমাণমতো ব্যায়াম বা দৈহিক পরিশ্রম করতে হবে
  • ডাক্তারের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র সুষ্ঠভাবে মেনে চলতে হবে
  • শরীর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
  • পায়ের বিশেষ যত্ন নিতে হবে
  • নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করতে হবে এবং ফলাফল প্রস্রাব পরীক্ষার বইতে লিখে রাখতে হবে
  • চিনি, মিষ্টি, গুড়, মধুযুক্ত খাবার সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে
  • ধূমপান করা যাবে না
  • শারীরিক কোন অসুবিধা দেখা দিলে দেরী না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন কারণেই ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা বন্ধ রাখা যাবে না
  • তাৎক্ষনিক রক্তে শর্করা পরিমাপক যন্ত্র দিয়ে নিজে নিজেই রক্তের শর্করা পরিমাপ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে সবচেয়ে ভাল
  • রক্তে শর্করা পরিমাপক বিশেষ কাঠি দিয়েও তাৎক্ষনিকভাবে রক্তের শর্করা পরিমাপ করা যায়

সংকলনে-

ডাঃ তানভীর  আহমদ   সিদ্দিকী