ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল

ভিটামিন সি এমন একটি পুষ্টি উপাদান যা মানব শরীরের জন্য খুবই জরুরি। কারণ রক্ত চলাচল থেকে শুরু করে শিরা ও ধমনীর কর্মক্ষমতা বজায় রাখা, কোষ গঠন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি সব কিছুতেই ভিটামিন সি-এর উপস্থিতি অপরিহার্য। ভিটামিন সি অত্যন্ত উচ্চ মানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বিভিন্ন দূষণ থেকে রক্ষা করে। নানা ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধেও সাহায্য করে ভিটামিন সি। এছাড়া এটিপি, ডোপেমিন ও পেপটাইন হরমোনের ক্ষেত্রেও ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মোটকথা আমাদের শরীরের চালিকাশক্তি বজায় রাখার জন্য ভিটামিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ভিটামিন সি-এর প্রাত্যহিক চাহিদা হলো ৬০ মিলিগ্রাম। এই ভিটামিন সি আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাবার থেকেই পেয়ে থাকি। ভিটামিন সি-এর একটি ভালো উত্‍সের কথা ভাবতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে লেবুর ছবি! কিন্তু জানেন কি, সর্বোচ্চ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ প্রথম দশটি খাবারের মধ্যেই লেবুর স্থান নেই? এটা সত্যি! অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই? লেবুর চেয়ে আরো অনেক বেশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। আসুন জেনে নিই সারাবিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ ভিটামিন সি যুক্ত দশটি খাবারের কথা –

কাঁচা মরিচ :

সর্বোচ্চ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের তালিকার প্রথমেই রয়েছে আমাদের অতি চেনা কাঁচা মরিচ। আমরা স্যুপ, সালাদ, ভর্তার সাথে বা এমনিতেই কাঁচা মরিচ খেয়ে থাকি। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচে রয়েছে ২৪২.৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। এর পরেই রয়েছে লাল মরিচের স্থান। প্রতি ১০০ গ্রাম লাল মরিচে রয়েছে ১৪৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

পেয়ারা :

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পেয়ারা। পেয়ারা প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য অংশে রয়েছে ২২৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। একটি মাঝারি আকারের পেয়ারায় প্রায় ১২৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তবে পেয়ারার জাতভেদে এর পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

বেল মরিচ :

বেল মরিচ পাস্তা সস বা পিজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি মেক্সিকান মরিচ। প্রতি ১০০ গ্রাম বেল মরিচে রয়েছে ১৮৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

টাটকা ভেষজ :

বেশির ভাগ ভেষজই নানান পুষ্টিগুণে ভরপুর। সেটা তাজা হোক অথবা শুকনো। তবে তাজা থাইম ও পোর্সলেতে রয়েছে আর সব ভেষজ থেকে বেশি ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম থাইমে রয়েছে ১৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং প্রতি ১০০ গ্রাম পোর্সলেতে রয়েছে ১৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

গাঢ় সবুজপাতা এবং শাক :

আমার খাবার হিসেবে যেসব কাঁচা পাতা খাই যেমন পুদিনা বা লেটুস তেমনই একটি হলো Kale। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম Kaleতে রয়েছে ১২০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। শাকের ভেতরে সরিষা শাক সর্বোচ্চ ভিটামিন সি যুক্ত। প্রতি ১০০ গ্রাম সরিষা শাকে রয়েছ ৭০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

ব্রকোলি :

সবুজ টাটকা ব্রকোলি ভিটামিন সি-এর আরেকটি ভালো উত্‍স। প্রতি ১০০ গ্রাম ব্রকোলিতে রয়েছে ৯৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

কিউয়ি ফল :

কিউয়ি ফল ভিটামিন সি-এর আরেকটি উত্‍কৃষ্ট উত্‍স। প্রতি ১০০গ্রাম কিউয়িতে রয়েছে ৯৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

পেঁপে :

আমাদের অতি পরিচিত ফল পেঁপে রয়েছে অষ্টম স্থানে। পেঁপেকে ভিটামিন এ এবং ফোলেটের আধার হিসেবে প্রাধান্য দেয়া হলেও এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে রয়েছে মিলিগ্রাম ৬২ ভিটামিন সি।

কমলা :

কমলার খাদ্যযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রাম অংশে রয়েছে ৫৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

স্ট্রবেরী :

চমত্‍কার স্বাদের ফল স্ট্রবেরী এমনিতে খাওয়ার পাশাপাশি কেক, আইসক্রিম, ডেজার্ট এবং আরো বিভিন্নভাবে খাওয়া হয়ে থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম স্ট্রবেরীতে রয়েছে ৫৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

করোনা ভাইরাস কী? লক্ষণ ও প্রতিরোধে আমাদের করণীয়!

করোনাভাইরাস, যার পোশাকি নাম কোভিড-১৯, সেই রোগটিকে এখন বিশ্ব মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এই ভাইরাস- যা পূর্বে বিজ্ঞানীদের অজানা ছিল- এর মধ্যেই চীনে অনেক মানুষের ফুসফুসের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাসটা কী?

করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি।

সারাবিশ্বে এরই মধ্যে ১৫০টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস, বিশ্বব্যাপী প্রাণহানি হয়েছে ৭ হাজারের বেশি মানুষের।

ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯ – এনসিওভি বা নভেল করোনাভাইরাস। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে নতুন ধরণের ভাইরাসের কারণে সেই সংখ্যা এখন থেকে হবে সাতটি।

২০০২ সাল থেকে চীনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭৭৪জনের মৃত্যু হয়েছিল আর ৮০৯৮জন সংক্রমিত হয়েছিল। সেটিও ছিল এক ধরণের করোনাভাইরাস।

নতুন এই রোগটিকে প্রথমদিকে নানা নামে ডাকা হচ্ছিল, যেমন: ‘চায়না ভাইরাস’, ‘করোনাভাইরাস’, ‘২০১৯ এনকভ’, ‘নতুন ভাইরাস’, ‘রহস্য ভাইরাস’ ইত্যাদি।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির আনুষ্ঠানিক নাম দেয় কোভিড-১৯ যা ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

রোগের লক্ষ্মণ কী:

জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ।

এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে।

সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ দেখা দেয়, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচদিন সময় নেয়।

প্রতিরোধে করণীয়!


করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুকি রোধে নিম্নের নিয়মাবলী কঠোর ভাবে পালন করার জন্য অনুরোধ করছি ঃ১। বাসা বা অফিসে প্রবেশের সময় সবাইকে বাধ্যতা মুলক ভাবে হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে দু হাত ভালোভাবে পরিস্কার করতে হবে।


২। হাঁচি কাশির সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যাবহার করতে হবে এবং ব্যাবহ্রিত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলতে হবে এবং দু হাত সাবান পানি বা হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে পরিস্কার করতে হবে।


৩। যেখানে সেখানে থুতু বা কফ ফেলা যাবেনা এবং অপরিস্কার হাত দিয়ে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করা যাবেনা।


৪। ঘন ঘন দুই হাত সাবান পানি দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে পরিস্কার করতে হবে। এছাড়া হাঁচি কাশির পর, টয়লেট করার পর, খাবার খাওয়া ও প্রস্তুত করার আগে ও পরে, পশু পাখির সংস্পর্শে আসার পর এবং হাত অপরিস্কার হলে হাত সাবান পানি দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে ধুতে হবে।


৫। হাঁচি, কাশি হলে কিম্বা জনবহুল স্থান হলে মাস্ক পরিধান করতে হবে। মাস্কটি এমন ভাবে পরুন যেনো তা নাক, মুখ ভালো ভাবে ঢেকে থাকে।


৬। মাস্কটি ব্যাবহারের সময় হাত দিয়ে ধরা থেকে বিরত থাকুন, খোলার সময় পিছন দিক দিয়ে মাস্ক খুলুন। একবার ব্যাবহারের পর মাস্কটি সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে আবার ব্যাবহার করুন।


৭। যথাসম্ভব কারো সাথে হাত মেলানো/ হ্যান্ড সেক বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।


৮। হাঁচি, কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত বাক্তি হতে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।


৯। যারা খাবার তৈরি বা সারভ করবে তারা খাবার তৈরির আগে ও পরে অবশ্যই দু হাত ভালো করে সাবান পানি দিয়ে পরিস্কার করবে।


১০। মাছ, মাংস ও ডিম ভালো করে ধুয়ে, ভালো ভাবে রান্না করে খেতে হবে এবং অসুস্থ পশু পাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

করোনা হটলাইন নাম্বারঃ
HOTLINE
333

10655

16263+8801944333222
+8801937000011
+8801937110011

করোনা ভাইরাস COVID-19 এ আক্রান্ত বা সন্দেহ নিয়ে মৃত ব্যাক্তির দাফন কাফনে
সরকার অনুমোদিত আল-মারকাজুল ইসলামী সংস্থার একদল নির্ভীক কর্মী দেশব্যাপী সেবা প্রদানের জন্য মাঠে আছেন।
প্রয়োজনে ফোন করুনঃ ০১৩১৬১১১৬৮৮
০১৮১৮৭৩২৯০৫

ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবারের তালিকা

বয়স ভেদে শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা ভিন্ন হয়।

শূন্য থেকে ছয় মাস – প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রাম

সাত থেকে ১২ মাস- প্রতিদিন ২৬০ মিলিগ্রাম

এক থেকে তিন বছর- প্রতিদিন ৭০০ মিলিগ্রাম

চার থেকে আট বছর- প্রতিদিন এক হাজার মিলিগ্রাম

নয় থেকে ১৮ বছর – প্রতিদিন এক হাজার ৩০০ মিলিগ্রাম

১৯ থেকে ৫০ বছর – প্রতিদিন এক হাজার মিলিগ্রাম

৫১ থেকে ৭০ বছর – প্রতিদিন এক হাজার মিলিগ্রাম (পুরুষ), এক হাজার ২০০ মিলিগ্রাম (নারী)

৭১ বছরের উপরে – প্রতিদিন এক হাজার ২০০ মিলিগ্রাম

বেশির ভাগ মানুষ শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে দুধ পান করেন। আবার অনেককে বিভিন্ন ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টের সাহায্য নিতে হয়। কিন্তু অনেকেই আছেন, যাঁরা দুধ এবং ক্যালসিমায় সাপ্লিমেন্ট দুই-ই পছন্দ করেন না। তাঁরা কিছু খাবার খেয়েই ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মিটিয়ে ফেলতে পারেন।

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ এমন কিছু খাবারের কথা জানুন।

১। তিল বীজ: তিলের বীজে উচ্চ মাত্রার ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও মিনারেলও থাকে। ১০০ গ্রাম কাঁচা তিল বীজে এক হাজার মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।

২। কমলালেবু: এই ফলেও ভিটামিন সি থাকে, যা ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।

৩। বাদাম: কাঠ বাদামে উচ্চমাত্র্রায় ক্যালসিয়াম থাকে। ১০০ গ্রাম কাঁচা অথবা নাট বাটারে ব্যবহৃত চূর্ণ করা কাঠ বাদামে ২৬৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।প্রায় সব ধরনের বাদামে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, ভাইটামিন, পটাসিয়াম, আয়রন ও খনিজ পদার্থ। এটি দেহের জন্য অতি উপকারি যা শক্ত হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে।

৪। ভেন্ডি: ঢেঁড়স একটি গ্রীষ্মকালীন সবজি. এক কাপ ভেন্ডিতে প্রায় ১৭২ মিলিগ্রাম ক্যাসিয়াম থাকে। যা আপনার শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে।

৫। ব্রোকলি: ক্যালসিয়ামে ভরপুর এই সব্জিও শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে।

৬। শালগম: শালগম ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়ামের উত্তম একটি উৎস। এটি হাড়ের নমনীয়তা, অস্টেয়োপরোসিস, ফ্রাকচার ইত্যাদি রোধ করতে সাহায্য করে এবং পেশীতে শক্তি যোগায় ও কর্মদক্ষতা বাড়ায়। এক কাপ শালগমে থাকে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম যা একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের এক-পঞ্চমাংশ ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করে।

বিশেষ সতর্কতা

বাদ দিন ক্যাফেইন

অনেকেই দিন শুরু করে কফি পানের মধ্য দিয়ে। আপনি যদি ক্যালসিয়ামের ঘাটতিতে ভুগে থাকেন, তাহলে কফি পানের অভ্যাস বাদ দেওয়াই উত্তম। গবেষণায় বলা হয়, দিনে চার কাপের বেশি কফি পান হাড় ক্ষয় রোগ বাড়ায়। বিশেষ করে যেসব নারীর ক্যালসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি হয়।

লবণ খাওয়া কমান

বেশি লবণ খেলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয়। এটি ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়। লবণ ছাড়াও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়াও বাদ দিন। এতে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হবে না। শরীরে ক্যালসিয়ামও বাড়বে।

পটাসিয়াম আছে যেসব খাবারে

দেহে ঝটপট শক্তি সরবরাহে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ কলার রয়েছে বিপুল ব্যবহার। স্ট্রোক ও হৃদরোগ প্রতিরোধে প্রধান খাদ্য উপাদান হতে পারে পটাশিয়াম। কলা ছাড়াও এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পটাশিয়ামের চাহিদা মেটাতে সক্ষম এবং সহজেই কলার বিকল্প হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

১. সাদা ও মিষ্টি আলু

একটি মিষ্টি আলুতে ৪৩৮ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম থাকতে পারে। অন্যদিকে, সাদা আলুর ক্ষেত্রে এ পরিমাণ হতে পারে দ্বিগুণ, প্রতিটি আলুতে ৯৫০ মিলিগ্রাম। দুই ধরনের আলুতেই উচ্চমাত্রায় ভিটামিন-এ বিদ্যমান।

২. বীট

মাত্র ১ কাপ বীটে পাওয়া যেতে পারে ৬৫৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। বাড়তি হিসেবে পাচ্ছেন ফলেট, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, আঁশ, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন-সি, আয়রন এবং ভিটামিন বি-৬।

৩. টমেটো সস

টমেটো সস যে পটাশিয়ামের ভালো উৎস হতে পারে তা শুনে হয়তো অনেকেই অবাক হবেন। তবে পিজা, পাস্তা ও বার্গারসহ ফাস্টফুডে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এ সসের এক কাপে থাকতে পারে ৯০৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম।

৪. মটরশুটি

আশ্চর্যজনক ভাবে, মটর শুঁটি থেকে আপনি পেতে পারেন সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পটাশিয়াম। এক কাপ মটর শুঁটিতে থাকতে পারে ১ হাজার ১৯০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম, যা প্রতিদিনকার প্রয়োজনের চার ভাগের এক ভাগ। এছাড়া উপরি পাওনা হিসেবে প্রোটিন, আঁশ ও ভিটামিন তো রয়েছেই।

৫. তরমুজ

মাত্র দু’ফালি তরমুজে থাকতে পারে ৬৪০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম। পাশাপাশি তরমুজের প্রধান খাদ্য উপাদান হচ্ছে লাইকোপেন, যেটি এক ধরনের উদ্ভিদ পিগমেন্ট। ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে লাইকোপেনের ভূমিকা বহুলভাবে স্বীকৃত।

৬. দই

ক্যালসিয়ামের একটি অন্যতম প্রধান উৎস হলো দই, পাশাপাশি প্রতি কাপ দই এ ৩৮০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। সঙ্গে এক টেবিল চামচ হ্যাজেলনাট আইসক্রিম মিশিয়ে নিলেই হলো। পেয়ে যাবেন বাড়তি ২১১ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম, যা সমপরিমাণ কলায় উপস্থিত পটাশিয়ামের থেকেও বেশি।

শরীর সুস্থ রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পটাশিয়ামের উৎস হিসেবে এখন থেকে কলার পাশাপাশি এসব খাবারও বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

সুষম-খাদ্যের-তালিকা

তিনবেলার সুষম খাবার

সুস্থ থাকার প্রধান নিয়ামক সুষম খাবার। খাবারে শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ পরিমাণ মতো থাকলে সেই খাবারকে সুষম খাবার বলা হয়। খাবার শুধু সুষম হলেই চলবে না, খেতে হবে সময়মতো।

দিনে তিনবার—সকাল, দুপুর ও রাতে পরিমাণমতো খাবার খেতে হবে।

ভিটামিনযুক্ত সুষম খাবার তালিকা

  • পালং শাকঃ– পালং শাকে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি ও কে রয়েছে যা মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহয়তা করে। পালং শাক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে।
  • কমলালেবুঃ– কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। যা ত্বকের জন্য খুব উপকার।
  • গাজরঃ– গাজরে ২৮ গ্রাম ভিটামিন কে থাকে। এটি রোগ দূর করার পাশাপাশি নার্ভাস সিস্টেম শক্ত রাখে। প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের রস খেলে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ে।
  • মিষ্টি আলুঃ- ভিটামিন ই ফুসফুস ও দেহের টিস্যু গঠনের সাহায্য করে। মিষ্টি আলুতে রয়েছে ভিটামিন ই। তাই আদর্শ খাবারের তালিকা এটি একটি সুষম খাদ্য।

এছাড়াও সবজি, মাছ, দুধ, লেবু, আপেল, ডিম, টমেটো ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে যা খাবারের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ।

সকালের সুষম খাবার

দিনের ভালো শুরুর জন্য সকালের খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ। সারা রাত ঘুমিয়ে থাকার পর সকালে পাকস্থলী খালি থাকে। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে তাই খাবার খেতে হবে। খালি পেটে থাকা যাবে না। সবার খাদ্যাভ্যাস এক রকম নয়। সকালে ভাত খান অনেকে।

এতে শর্করার প্রয়োজন পূরণ হয়। খেতে পারেন রুটি, পরোটা, খিচুড়ি, পাউরুটি কিংবা মুড়ি। আমিষের জন্য সঙ্গে ডিম, ডাল, এক থেকে দুই টুকরা মাংস ও সবজি খেতে হবে।

দুপুরে সুষম খাবার তালিকা

সকালের খাবার ৮টার মধ্যে খেয়ে নিলে দুপুরের খাবার ২টার মধ্যে খেয়ে নেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। দুপুরে এক কাপ ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে ডাল, ডিম কিংবা এক থেকে দুই টুকরা মাছ অথবা মাংস ও সবজি খেতে হবে। এতেই শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে।

রাতের খাবারের তালিকা

রাতে অনেকের মধ্যে খাবার কম খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এটা আদৌ ঠিক নয়। রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার খেতে হবে। রাতের খাবারে এক কাপ ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে ডাল, ডিম কিংবা এক থেকে দুই টুকরা মাছ অথবা মাংস ও সবজি খেতে হবে।

অনেকেই মাছ কিংবা মাংস খেতে চান না। এই অভ্যাস থেকে সরে আসতে হবে। দিনের পর দিন মাছ-মাংস থেকে দূরে থাকলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়। শরীরে শক্তি কমতে শুরু করে। এ জন্য নিয়মিত প্রাণিজ প্রোটিন খেতে হবে।

বয়স ভিত্তিক সুষম খাদ্যের তালিকা

পাঁচ মাসের শিশুর সুষম খাদ্য (প্রতি বেলার)

খাদ্য সামগ্রীপরিমাণ
১। চালের গুড়া তরল৩০ গ্রাম
২। পাকা পেঁপে২০ গ্রাম
৩। কচি পাতার সবজি১০ গ্রাম
৪। চিনি/মধু৫ গ্রাম
৫। দুধ৫০ গ্রাম
মোট১১৫ গ্রাম

প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের দৈনিক সুষম খাদ্যের তালিকা

খাবারদৈনিক প্রয়োজনপ্রাপ্ত পুষ্টি উপাদান
মোটা চাল৪ ছটাক (২৫০ গ্রাম)কিলো ক্যালরীঃ ২৭৭০
আটা৪ ছটাক (২৫০ গ্রাম)প্রোটিনঃ ৮০ গ্রাম
ডাল, সিমের বিচি মটরশুটি প্রভৃতি১.৫ ছটাক (৯০ গ্রাম)ক্যালসিয়ামঃ ৭০০ (মিঃ গ্রাম)
ছোট মাছ১ ছটাক (৬০ গ্রাম)আয়রনঃ ৬০ (মিঃ গ্রাম)
মিষ্টি আলু২ ছটাক (১২৫ গ্রাম) 
শাক (কচু, সাজনা, পালং, পুঁই, লাল শাক )১.৫ ছটাক (৯০ গ্রাম)ভিটামিন- এঃ ১২৪৫ (আই,ইউ)
সবজি (সিম, উচ্ছে, ঢেঁড়ষ, পটল, লাউ প্রভৃতি)১.৫ ছটাক (৯০ গ্রাম)ভিটামিন – বি২: ১.৫ (মিঃ গ্রাম)
ফল (পেয়ারা, আমলকি, কুল, আম প্রভৃতি)২/১ টিভিটামিন- সিঃ ১৮০ (মিঃ গ্রাম)
তৈল (সয়াবিন)১ ছটাক (৬০ গ্রাম) 
চিনি বা গুড়০.৫ ছটাক (৩০ গ্রাম) 

পূর্ণ বয়স্ক পরিশ্রমী পুরুষের সুষম খাদ্যের তালিকা (প্রতি বেলার)

খাদ্য সামগ্রীপরিমাণ
১। ভাত/রুটি২৫০ গ্রাম
২। আলু ভাজি১০০ গ্রাম
৩। ছোট মাছ৮০ গ্রাম
৪। শাক-সবজি২৫০ গ্রাম
৫। মৌসুমী ফল২৫০ গ্রাম
৬। মাংস৫০ গ্রাম
৭। চিনি/গুড়২০ গ্রাম
৮। দুধ৩০০ গ্রাম
মোট১৩০০ গ্রাম

প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলার দৈনিক সুষম খাদ্যের তালিকা

খাবারদৈনিক প্রয়োজনপ্রাপ্ত পুষ্টি উপাদান
চাল/আটা৬ ছটাক (৩৭৫ গ্রাম)কিলো ক্যালরীঃ ২১০০
ডাল০.৭৫ ছটাক (৪৫ গ্রাম)প্রোটিনঃ ৫৬ গ্রাম
শাক২.৫ ছটাক (১৫৫ গ্রাম)ক্যালসিয়ামঃ ৬০০ (মিঃ গ্রাম)
অন্যান্য সবজি১.৫ ছটাক (৯০ গ্রাম)আয়রনঃ ৪০ (মিঃ গ্রাম)
আলু/মিষ্টি আলু১ ছটাক (৬০ গ্রাম)ভিটামিন- এঃ ৩৫০ (আই,ইউ)
মাছ/মাংস/ডিম১ ছটাক (৬০ গ্রাম)ক্যারোটিনঃ ৭৫০০ (মাঃ গ্রাম)
তৈল (সয়াবিন)১ ছটাক (৬০ গ্রাম)ভিটামিন-‘বি২’: ১.১ (মিঃ গ্রাম)
ফল১ টিভিটামিন- সিঃ ৫৫ (মিঃ গ্রাম)

গর্ভবতী মায়ের সুষম খাদ্যের তালিকা (প্রতি বেলার)

খাদ্য সামগ্রীপরিমাণ
১। ভাত/রুটি২৬০ গ্রাম
২। টাটকা শাক১২০ গ্রাম
৩। সবজি৮০ গ্রাম
৪। ডাল (মসুর)৪০ গ্রাম
৫। ছোট মাছ/মাংস৬০ গ্রাম
৬। মৌসুমী ফল১৫০ গ্রাম
৭। চিনি/গুড়২০ গ্রাম
৮। দুধ২৫০ গ্রাম
৯। ডিম২০ গ্রাম
মোট১০০০ গ্রাম

প্রসূতি মায়ের সুষম খাদ্যের তালিকা (প্রতি বেলার)

খাদ্য সামগ্রীপরিমাণ
১। ভাত/রুটি২৬০ গ্রাম
২। ডাল (মসুর)৪০ গ্রাম
৩। শাক-সবজি২০০ গ্রাম
৪। ছোট মাছ৮০ গ্রাম
৫। মৌসুমী ফল২০০ গ্রাম
৬। মাছ/মাংস৬০ গ্রাম
৭। চিনি/দুধ৩০০ গ্রাম
৮। চিনি/গুড়৬০ গ্রাম
মোট১২০০ গ্রাম

পাঁচ মাসের শিশুর সুষম খাদ্য (প্রতি বেলার)

খাদ্য সামগ্রীপরিমাণ
১। চালের গুড়া তরল৩০ গ্রাম
২। পাকা পেঁপে২০ গ্রাম
৩। কচি পাতার সবজি১০ গ্রাম
৪। চিনি/মধু৫ গ্রাম
৫। দুধ৫০ গ্রাম
মোট১১৫ গ্রাম

গর্ভবতী মায়ের সুষম খাদ্যের তালিকা (প্রতি বেলার)

খাদ্য সামগ্রীপরিমাণ
১। ভাত/রুটি২৬০ গ্রাম
২। টাটকা শাক১২০ গ্রাম
৩। সবজি৮০ গ্রাম
৪। ডাল (মসুর)৪০ গ্রাম
৫। ছোট মাছ/মাংস৬০ গ্রাম
৬। মৌসুমী ফল১৫০ গ্রাম
৭। চিনি/গুড়২০ গ্রাম
৮। দুধ২৫০ গ্রাম
৯। ডিম২০ গ্রাম
মোট১০০০ গ্রাম