ক্যান্সারের সম্ভাব্য লক্ষন ও সচেতনতা

ক্যান্সারের উপসর্গ শনাক্ত হলে ঘাবড়ে না গিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন 

মানুষকে যে রোগগুলো বেশি ভোগায়, তার মধ্যে ক্যান্সার সবচেয়ে ভীতিকর। ক্যান্সার শরীরে একবার বাসা বেঁধে ফেললে রোগীকে বাঁচিয়ে ফেরানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়। ক্যান্সার হয়ে গেলে আরও অনেক রোগ চেপে বসে শরীরে। তখন রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা একেবারে দুঃসাধ্যই হয়ে যায়। তবে কেউ যদি প্রাথমিক পর্যায়েই এই মরণব্যাধি শনাক্ত করে ফেলতে পারে, তার বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানিই উজ্জ্বল থাকে।

সেজন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, শরীরে কোনো অসুস্থতা দেখা দিলে, বিশেষত উদ্বেগজনক কোনো উপসর্গ বোঝা গেলে, অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

১. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি

আপনি যদি দীর্ঘ সময় ধরে ক্লান্তিবোধ করেন অথবা অবসাদে ভোগেন তবে সেটা অনেক রোগেরই কারণ হতে পারে, হতে পারে ক্যান্সারও। মলাশয়ের ক্যান্সার বা রক্তে ক্যান্সার হলে সাধারণত এমন উপসর্গ দেখা যায়। তাই, আপনি যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি ক্লান্তিবোধ করেন অথবা দীর্ঘসময় ধরে ক্লান্ত থাকেন, অবিলম্বে চিকিৎসা সেবা নিন।

২. আকস্মিক ওজন হ্রাস

কোনো কারণ ছাড়া হঠাৎ করেই দ্রুতগতিতে যদি ওজন হারাতে থাকেন, তবে ভাবনার কারণ আছে। অনেক ক্যান্সারই সাধারণত হুট করে ওজন কমিয়ে ফেলে। তাই শরীরের ওজনের দিকে খেয়াল রাখতে হবে সবসময়।

প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসাসেবায় রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব

৩. দীর্ঘদিনের ব্যথা

দৃশ্যত কোনো কারণ (যেমন জখম-আঘাত) ছাড়া যদি আপনি দীর্ঘদিন ধরে শরীরের কোনো স্থানে ব্যথায় ভোগেন, তবে তাতে ওষুধও কাজ না করলে এ নিয়ে ভাবনার কারণ আছে। শরীরের কোন জায়গায় ব্যথা করছে তার ওপর নির্ভর করছে রোগী ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত নাকি ডিম্বাশয়, পায়ুপথ বা মলাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত।

৪. অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ড

আপনি যদি শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক কোনো মাংসপিণ্ড দেখতে পান অথবা মাংস জমাট হতে দেখেন কিংবা এ ধরনের পরিবর্তন বুঝতে পারেন, তবে এটা তেমন কিছুরই লক্ষণ, যা আপনার কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত। এমনকি আপনার শরীরে কোনো পরিবর্তন স্বাভাবিক মনে হলেও পর্যবেক্ষণ করুন, এরপর অন্তত চিকিৎসককে জানান।

৫. ঘন ঘন জ্বর

ক্যান্সার শরীরে জেঁকে বসলে স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এতে ঘন ঘন জ্বর দেখা দেয়। দুর্ভাবনার ব্যাপার হলো, কিছু ক্যান্সারের শেষ পর্যায়েরই উপসর্গ ঘন ঘন জ্বর। তবে ব্ল্যাড ক্যান্সারসহ এ ধরনের কিছু ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়েই ঘন ঘন জ্বর দেখা দেয় শরীরে।

৬. ত্বকে পরিবর্তন

অনেকেই ত্বকের ক্যান্সারের ব্যাপারে সচেতন নন। ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তনই এমন ক্যান্সার শনাক্ত করার সহজ উপায়। তাই ত্বকে অতিরিক্ত তিল বা ফ্রিকেল অথবা আঁচিলের দিকে খেয়াল করুন। যদি এর রং, আকারে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। ত্বক লালচে হয়ে যাওয়া, ফস্কুড়ি পড়ে যাওয়া এবং রক্তক্ষরণও অন্যান্য ক্যান্সারের উপসর্গ।

৭. দীর্ঘস্থায়ী কাঁশি

আপনি যদি দেখেন যে ওষুধ সেবনের পরও কাশি সারছেই না, তবে শীতকালীন কাশির চেয়েও এটা বেশি কিছু ধরে নিতে হবে। আর এই কাশির কারণে যদি আপনার বুক, পিঠ বা কাঁধে ব্যথা করে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৮. মল-মূত্রত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন

যদি মল বা মূত্রত্যাগের জন্য ঘন ঘন শৌচাগারে যেতে হয়, তবে এখানে ক্যান্সার নিয়ে ভাবনার কারণ আছে। ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যও মলাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণ। মূত্রত্যাগের সময় অন্ত্রে ব্যথা বা রক্তক্ষরণ মূত্রথলির ক্যান্সারের উপসর্গ।

৯. অকারণে রক্তক্ষরণ

যদি কাশির সময় রক্তক্ষরণ হয়, তবে এটা ক্যান্সারের বড় লক্ষণ। এছাড়া স্ত্রী অঙ্গ (ভ্যাজিনা) বা মলদ্বার থেকে রক্তক্ষরণসহ এ ধরনের অন্যান্য অস্বাভাবিকতাও ক্যান্সারের উপসর্গ।

১০. খাবার গ্রহণে সমস্যা

কেউ খাবার খেলেই যদি নিয়মিত বদহজমে ভোগেন, তবে পেট, কণ্ঠনালী বা গলার ক্যান্সার নিয়ে ভাবনার কারণ আছে। অবশ্য সাধারণত এসব উপসর্গকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। তবু অসুস্থতাকে কখনো এড়িয়ে যেতে নেই।

১১. অন্যান্য উপসর্গ

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপরে উল্লিখিত উপসর্গগুলোকে ক্যান্সারের সাধারণ লক্ষণ মনে করা হয়। তবে এর বাইরেও অনেক লক্ষণ আছে ক্যান্সারের। এগুলোর মধ্যে আছে পা ফুলে যাওয়া, শরীরের আকারে বা অনুভূতিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ইত্যাদি।

রোগের নাম লুপাস

লুপাস রোগটির আরেক নাম সিস্টেমিক লুপাস ইরাথেমেটাস বা এসএলই। এটি একটি অটোইমিউন ডিজিজ, মানে ইমিউন সিস্টেম নিজের শরীরের বিরুদ্ধে কাজ করে। লুপাস মূলত কম বয়সী মেয়েদের রোগ। ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মেয়েরাই বেশি আক্রান্ত হয়।

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও কোষ আক্রান্ত হয় বলে এই রোগের লক্ষণ বিচিত্র। নানামুখী উপসর্গের কারণে রোগনির্ণয়ে প্রায়ই বিলম্ব ঘটে। জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের লুপাস ফাউন্ডেশন সম্প্রতি একটি সহজ চেকলিস্ট তৈরি করেছে, যা রোগ লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে সাধারণ মানুষও সতর্ক হতে পারেন। নিচের লক্ষণগুলো দীর্ঘ মেয়াদে বা একত্রে বেশ কয়েকটি উপস্থিত থাকলে আপনার লুপাস হয়েছে বলে সন্দেহ করতে পারেন।

ত্বক
সূর্যালোকের প্রতি সংবেদনশীল ত্বক, লাল চাকা
নাক থেকে গালে দুই পাশে প্রজাপতির পাখার মতো র‌্যাশ
অতিরিক্ত চুল পড়া

সন্ধি ও পেশি
তিন মাসের বেশি সময় ধরে একাধিক অস্থি সন্ধিতে ব্যথা বা ফোলা
কারণ ছাড়া ক্লান্তি ও দুর্বলতা

মস্তিষ্ক ও স্নায়ু
খিঁচুনি, অস্বাভাবিক আচরণ, যা এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়
দীর্ঘমেয়াদি জ্বর, যার কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না

হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস
বুকে ব্যথা, যা দীর্ঘ শ্বাস নিলে বাড়ে

নাক কান গলা
মুখের তালুতে দীর্ঘমেয়াদি ঘা

রক্ত ও রক্তপরিবহন তন্ত্র
রক্তশূন্যতা, রক্তে শ্বেতকণিকা বা অণুচক্রিকার অভাব
ঠান্ডায় আঙুলের রং পরিবর্তন (প্রথমে সাদা, তারপর নীল, শেষে লাল)
প্রস্রাব লাল হওয়া, ফেনাযুক্ত হওয়া বা প্রস্রাবে আমিষ যেতে থাকা
মুখ চোখ পা ফুলে যাওয়া

লুপাস ছোঁয়াচে নয়, বংশগত রোগও নয়। এ রোগের কোনো নিরাময় নেই, তবে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করলে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। চিকিৎসা না করলে মৃত্যুঝুঁকি আছে।

সংবেদনশীল ত্বক থাকলে রোদে বেশি যাওয়া যাবে না, সানব্লক (এসপিএফ ৩০) লাগাতে হবে। লুপাস রোগী বিয়ে করতে পারবেন, সন্তানও নিতে পারবেন। তবে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য কনডম তাঁদের জন্য সবচেয়ে ভালো, জন্মবিরতিকরণ পিল অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ। তবে রোগের তীব্রতা কম হলে, কিডনি জটিলতা ও রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি না থাকলে স্বল্পমাত্রার বড়ি খাওয়া যায়।

গরমে আদর্শ ইফতারের প্লেট

এ বছর রোজা একেবারে বৈশাখ মাসে শুরু হলো। গ্রীষ্মের তেজও এ বছর যেন বেশি। তাই এবার রমজানে রোজাদারদের পানিশূন্যতা, লবণশূন্যতা ও বদহজম যেন না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে বেশি।

পানি আর পানীয়

ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করে ফেলতে হবে। ইফতারে রোজা ভাঙার সময় আমরা শরবত পছন্দ করি। লেবু, তোকমা, তেঁতুল, টকদই, দুধ, বেল, কাঁচা আম, ইসবগুলের ভুসি ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে শরবত তৈরি করা যায়। ডায়াবেটিসের রোগীরা চিনি না দিয়ে বিকল্প চিনি ব্যবহার করতে পারেন বা ডাবের পানি পান করতে পারেন।

পানিশূন্যতা রোধে খাবার

ইফতারে ভেজানো চিড়া দিয়ে দই-কলা, শসার রায়তা, নানা রকমের ফল পানিশূন্যতা রোধ করবে। দুধ-মুড়ি, নরম খিচুড়িও ভালো খাবার। ঐতিহ্যবাহী ইফতারি যেমন পেঁয়াজি, বেগুনি, কাটলেট, চপ, কাবাব, জিলাপি, তেহারি ইত্যাদি যেমন ক্যালরিবহুল, তেমনি এই গরমে অস্বস্তিকর হতে পারে। তেল কমানোর জন্য কাঁচা ছোলা বা সেদ্ধ ছোলার সঙ্গে শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, আদা কুচি, পুদিনা মিশিয়ে সালাদের মতো করে খেতে পারেন। চটপটিও তেলবিহীন। ইফতারের প্লেটে একটি বা দুটি তেলে ভাজা খাবার রাখুন, তবে তেল যেন বহু ব্যবহৃত না হয়।

চাই ফলমূল

রমজানে শাকসবজি তেমন খাওয়ার সুযোগ হয় না। তাই তাজা ফল বেশি খাওয়া ভালো। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, আঁশের চাহিদা মেটে, মেলে প্রচুর পটাশিয়াম, খনিজ, ভিটামিন। খেজুরে উচ্চ মাত্রার আয়রন, শর্করা, ক্যালসিয়াম আছে, কিন্তু এতে ক্যালরিও অনেক। বড়জোর দুটি খেজুর রাখুন প্লেটে।

একটি আদর্শ ইফতারের প্লেট

এক গ্লাস শরবত বা ডাবের পানি। হালকা তেলে ভাজা বা সেদ্ধ বা কাঁচা ছোলা আধা কাপ, মুড়ি মাখানো হলে পৌনে এক কাপ, দুটি খেজুর, পেঁয়াজি/আলুর চপ/পাকোড়া/কাবাব—যেকোনো দুটি আইটেম থেকে দুটি করে। যেদিন হালিম থাকবে সেদিন বেসন বা ডালের তৈরি খাবার বাদ দিন। ফল নিন ইচ্ছামতো (মাল্টা, পেয়ারা, চাঁপা কলা, তরমুজ, বাঙ্গি, আনারস)। শসার রায়তা/টকদই দুই চা-চামচ থাকতে পারে।

গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন

গরমে অসুস্থতার ভয়ে অনেক ধরনের খাবার এড়িয়ে চলেন অনেকই। শরীরের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা প্রত্যেক ঋতুর অনুযায়ী আলাদা। গ্রীষ্মকালে বিশেষত প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এমন খাবার রাখতে হবে যা সহজে হজম হয়। ডিহাইড্রেশন ঘটাবে না এমন খাবার বেশি করে খেতে হবে।

দেখে নিন কী কী খাবার এড়িয়ে চলবেন আর কী কী খাবার খাবেন:

রোদ থেকে ফিরে ঠান্ডা পানি খাবেন না:

গরমে রোদ থেকে ফিরেই ঠান্ড পানি খাবেন না। এর মূল কারণটা হল, সূর্যের তাপের মধ্যে থাকার পর সাথে সাথে ঠান্ড পানি খেলে দৈহিক গঠনতন্ত্রে সমস্য হতে পারে। এর ফলে গলায়ও সমস্যা হতে পারে এবং হজমের সমস্যা দেখা যায়।

বেশি ক্যাফিন খাবেন না:

গরম কালে ক্যাফিন এড়িয়ে চলুন। ক্যাফিনে ডিউরেটিক উপাদান রয়েছে। আর এই উপাদান শরীরে পানির মাত্রা কমিয়ে দেয়। তাই গরমকালে খুব বেশি কফি বা চা খেলে মাথা ব্যাথা হতে পারে এবং শরীরে পানি কমে যেতে পারে।

ঠান্ডা পানীয় ও জুস এড়িয়ে চলুন:

ঠান্ডা পানীয় ও জুসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে চিনি। এই ধরেনের খাবার সাময়িকভাবে আপনার শক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে কয়েক দিন পরেই এর উল্টো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ঠান্ডা পানীয় ও জুস জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলুন। তবে প্রাকৃতিক চিনিসমৃদ্ধ তাজা ফলের জুস পান করতে পারেন।

ক্র্যাশ ডায়েট বন্ধ করুন:

অনেক মানুষই গ্রীষ্মকালে ওজন কমাতে তৎপর হয়ে ওঠেন। দ্রুত ফলাফল পাওয়ার আশায় অনেকেই অন্য ধরনের ডায়েটে করা শুরু করেন। যার ফলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ক্র্যাশ ডায়েটিং আলস্য, মাথা ব্যাথা, বমি ভাব এবং ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে।

ডিম, মাছ ও চিকেন:

ডিম, মাছ ও চিকেন শরীরে অত্যধিক তাপ উৎপন্ন করে এমন একটি ভুল ধারণা রয়েছে অনেকের। এই কারণে গ্রীষ্মের সময় অনেকেই এসব খাবার এড়িয়ে চলেন। এই তিনটি খাবারই চর্বিযুক্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ। গরমকালে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে আপনি গ্রীষ্মের সময় মাটন, গরুর মাংস এড়িয়ে চলতে পারেন।

ডায়াবেটিক রোগীর জন্য

রোজা এলেই লাখ লাখ ডায়াবেটিক রোগীর মনে অসংখ্য প্রশ্ন উঁকি দেয়। তারা কখন রোজা রাখতে পারবে না, রোজার কারণে কোনো ক্ষতি হবে কি না, ডায়াবেটিসের সঙ্গে হার্ট, কিডনি বা অন্য কোনো রোগ থাকলে রোজা রাখা যাবে কি না ইত্যাদি। তবে ডায়াবেটিসের গবেষণায় অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান আমেরিকান ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন রোজা রাখার ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক রোগীদের কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। যেমন—

 

অতিশয় উচ্চমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ

♦ রক্তে সুগারের মাত্রা যদি চারের নিচে নেমে যায়, তখন সেটিকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া। এটা হলে বুক ধড়ফড়, অতিরিক্ত ঘাম, হাত-পা কাঁপা, মাথা ব্যথা, চোখে ঘোলা দেখাসহ কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। এমন যদি হয় যে মাঝেমধ্যেই কারো হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস আছে, তাহলে তার রোজা রাখা উচিত হবে না।

♦ এ ছাড়া টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিক রোগী, গর্ভবতী, ডায়ালিসিস গ্রহণকারী বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো অসুস্থ ডায়াবেটিক রোগীদের রোজা রাখা যাবে না।

♦ বিগত তিন মাসে কিটোএসিডোসিসসহ ডায়াবেটিসের তাত্ক্ষণিক জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে রোজা রাখা যাবে না।

 

উচ্চমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ

অ্যাডভান্সড কিডনি রোগী, অসুস্থ বয়স্ক ব্যক্তি, বাসায় একা থাকে এবং ইনসুলিন নিতে হয় এমন ব্যক্তি, আগে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে এবং এখনো জটিলতা বিদ্যমান এমন কেউ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি—এই গ্রুপভুক্ত ডায়াবেটিক রোগীরা রোজা রাখলে ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন। তাই তাঁদের রোজা না রাখাই ভালো।

 

সতর্ক থাকুন

ওপরের দুই গ্রুপের বাইরে সচরাচর ডায়াবেটিক রোগীদের রোজা রাখতে তেমন বাধা নেই। তবে কিছু বিষয়ে তাদের ভালোভাবে খেয়াল রাখা উচিত। যেমন—

ব্লাড গ্লুকোজ দেখুন : ইফতারের ১ ঘণ্টা আগে, সাহরির ২ ঘণ্টা পরে এবং শরীর খারাপ লাগলে দিনের অন্যান্য সময় ব্লাড গ্লুকোজ মাপুন। প্রতিদিন না মাপলেও রোজার মধ্যে সপ্তাহে দু-এক দিন মাপা উচিত। গ্লুকোমিটারে স্ট্রিপ টেস্টের মাধ্যমে ডায়াবেটিস মাপলে ধর্মীয়ভাবে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

ইফতারে সহজ পাচ্য খাবার খান : ইফতারে সহজ পাচ্য শর্করাজাতীয় খাবার খান, যেটা খুব সহজে হজম হয় এবং খাদ্যগুণ যেন অতিদ্রুত রক্তে মিশতে পারে। যেমন—পরিমাণমতো মৌসুমি ফল, শরবত, ছোলা ইত্যাদি। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন। তেল ও চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার করুন।

সাহরিতে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট : সাহরিতে খান কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট—অর্থাৎ যে খাবারগুলো ধীরে ধীরে হজম হয় এবং খাবার ধীরে ধীরে রক্তে মেশে। যেমন—ভাত বা রুটি। এসবের সঙ্গে রাখুন প্রচুর পরিমাণ শাকসবজি।

ওষুধের ডোজ সমন্বয় করুন : রোজার সময় ডায়াবেটিক রোগীদের সকালের ওষুধ (ইনসুলিন বা ট্যাবলেট) ইফতারের সময়, দুপুরের ওষুধ রাতে, আর রাতের ওষুধ সাহরিতে—এভাবে সমন্বয় করতে হয়। ওষুধের ডোজের পরিমাণ এবং ওষুধ নেওয়ার সময় পরিবর্তন বা সমন্বয়ের কাজটি নিজে নিজে না করে রোজার শুরুতেই একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ব্যায়াম নয় : ডায়াবেটিক রোগীদের সকাল-বিকাল হাঁটাচলার পরামর্শ দেওয়া হলেও রোজার সময় তারাবির নামাজই শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম। তবে ইচ্ছা হলে ইফতার ও রাতের খাবারের মধ্যবর্তী সময় হালকা হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে।

 

সতর্ক থাকুন

♦ চোখে ঘোলা দেখা, অতিরিক্ত ঘাম দেওয়া, হাত-পা কাঁপা, গলা শুকিয়ে আসা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মাথা ব্যথা বা ভারসাম্যহীন অনুভব করলে রক্তে সুগারের পরিমাণ চেক করুন। এ সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি ৩.৯ মিলিমলের নিচে চলে আসে বা ১৬.৭ মিলিমলের ওপরে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে ফেলুন।

♦ হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে রোজা ভেঙে ফেলুন।